পাঁচ বছরেও প্রশাসনিক সংস্কার হয়নি আলিপুরদুয়ারে

253

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার জেলা গঠনের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক সংস্কার হয়নি। ফলে জেলা হওয়ার যে সুফল তা এখনও নাগালের বাইরেই। নতুন জেলায় এখনও পর্যন্ত কোনও মহকুমা এবং ব্লক গঠন হয়নি। পাশাপাশি, জেলায় একাধিক জায়গায় নতুন থানা গঠনের প্রস্তাব থাকলেও তা পূরণ হয়নি। সেই সঙ্গে জেলা আদালতের শুধু বোর্ডই লেগেছে। ফলে নতুন জেলার এই অবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একুশের বিধানসভা ভোটে জেলার প্রশাসনিক সংস্কার না হওয়ার বিষয়টি ভোটের ইস্যু করছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষ করে বিজেপি একুশের ভোটে তৃণমূলকে জব্দ করতে প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়টিকে প্রচারের অন্যতম অস্ত্র করছে।

জেলার একমাত্র মহকুমা হিসাবে এখনও আলিপুরদুয়ার সদর মহকুমাই রয়েছে। জেলার ছয়টি ব্লকের আয়তন এতটাই বড় যে, ব্লক থেকে জেলা অফিসে আসতে  ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা লেগে যায়। ফালাকাটা, কুমারগ্রাম ও কালচিনি ব্লকের আয়তন এতটাই বড় যে, বিশেষ করে এই ব্লকগুলি ভেঙেই আলিপুরদুয়ার জেলার নতুন মহকুমা ও ব্লক গঠন করার দাবি উঠেছে। এই তিন ব্লককেই মহকুমা শহরের মর্যাদার দাবিতে ইতিমধ্যেই আন্দোলন শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার সাধারণ মানুষের এই দাবিকেই এবার হাতিয়ার করছে বিজেপি। অন্যদিকে, সম্প্রতি ফালাকাটায় এসে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ফালাকাটাকে পুরসভা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি জয়গাঁতে এসে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জয়গাঁকেও পুরসভায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন। দুই মন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, তিন-চার বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় এসে দুই জায়গাকেই পুরসভা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। পাশাপাশি জেলায় নতুন মহকুমা, থানা, ব্লক গঠনও করা হয়নি। এই অবস্থায় ভোটের আগে ফের দুই মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিকে হাতিয়ার করেই ভোট প্রচারের ইস্যু করছে বিজেপি সহ অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপির জেলার সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, জেলা গঠনের পাঁচ বছর হলেও মহকুমা, ব্লক গঠনের কোনও উদ্যোগ নেই সরকারের। এতদিনেও পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামোও গড়ে ওঠেনি। কিন্তু সামনে ভোটের কথা মাথায় রেখে তৃণমূলের দুই মন্ত্রী জেলার দুজায়গাকে পুরসভা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জেলাবাসী তৃণমূলের এই চালাকি বুঝে গিয়েছেন। আমরা একুশে ক্ষমতায় এসেই জেলার সংস্কার শুরু করব।

- Advertisement -

সিপিএম নেতা অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, নতুন জেলা হলেও এখনও মানুষের হয়রানি কমেনি। বহু কাজে বাসিন্দাদের জলপাইগুড়িতে ছুটতে হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো গড়ে না ওঠাতেই মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই আমরা দলের তরফে নতুন মহকুমা ও ব্লক গঠনের দাবি জানিয়েছি। আগামী একুশের বিধানসভা ভোটে এই বিষয়টিই আমরা প্রচারের ইস্যু করছি। এদিকে বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারকে জেলায় উন্নীত করার পাশাপাশি ডুয়ার্সকন্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেডিয়াম সহ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন করেছেন। এখনও ধারাবাহিক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। কিন্তু বিজেপি লোকসভা ভোটে জিতেও জেলার জন্য একটা কাজও করতে পারেনি। তাদের সাংসদকে তো দূরবিন দিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাচ্ছে না। আর এরা করবে উন্নয়ন! বিজেপির ধাপ্পাবাজি জেলার সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছেন। আমরা আমাদের উন্নয়নমূলক কাজ ও বিজেপির নোংরা রাজনীতির বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরব।