উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্যের দাবিতে অনড় বারলা

390

আলিপুরদুয়ার: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই উত্তরবঙ্গ রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা দরকার। করোনা আবহ কাটলেই এই দাবি জানিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন সাংসদ। পৃথক রাজ্যের দাবিকে তাঁর দল সমর্থন করুক বা না করুক সে নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও সাংসদ এদিন সাফ জানান, উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবি এখানকার মানুষের থেকেই উঠে এসেছে।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জন বারলা বলেন, ‘এখানে কেন্দ্রের পাঠানো উন্নয়নের টাকা কোথায় গিয়েছে? উত্তরবঙ্গের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত কেন? অসম সীমানা থেকে নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত জাতীয় সড়কের ধারে বিভিন্ন এলাকার দখল নিয়েছে বাংলাদেশি রোহিঙ্গারা। ওদের ভোটার, র‍্যাশন কার্ড সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অথচ এখানকার মানুষরাই র‍্যাশন কার্ড পাচ্ছে না।’

- Advertisement -

সাংসদ বলেন, ‘এখানে বিধানসভা ভোটের পর বিজেপির হাজার হাজার কর্মী আজও ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন। তাঁদের ঘরে ফিরতে গেলে শাসকদলের নেতাদের মোটা টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে। এ আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি। এখানে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, রাজ্য সরকার কেউই আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কথা শুনছে না। তাই এখানকার লাঞ্ছিত, বঞ্চিত মানুষের স্বার্থে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবির কথা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।’ পৃথক রাজ্যের ইস্যুতে এদিন পালটা সুর চড়িয়েছে তৃণমূলও।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ গত দু’বছরে কী কাজ করেছেন তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক। সাংসদের বাংলা ভাগের চক্রান্ত উত্তরবঙ্গের মানুষ বরদাস্ত করবে না। জন বারলা উত্তরবঙ্গের যে প্রান্তেই যাবেন, তাঁকে বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্রের জন্য মানুষ কালো পতাকা দেখাবে। বিক্ষোভও দেখাবে।’