আলিপুরদুয়ার পুরএলাকায় বেহাল কাঁচা রাস্তা ক্ষোভ বাড়াচ্ছে বাসিন্দাদের

338

আলিপুরদুয়ার : ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার পুরসভায় আজও সব ওয়ার্ডে পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। মাটির কাঁচা রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করছেন বাসিন্দারা। শহরের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দার যোগাযোগের আজও ভরসা ওই কাঁচা রাস্তা। আবার শীতের দিনে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষার মরশুমে  রাস্তাগুলি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এবছরও বর্ষায় মাটি ক্ষয়ে রাস্তাগুলির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে অবশ্য রাস্তাগুলি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেকগুলি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে কয়েকটি কাঁচা রাস্তাও পাকা করা হয়েছে। অন্য কাঁচা রাস্তা গুলিও যাতে পাকা করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আলিপুরদুয়ার পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে,  প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এই পুরসভায় বর্তমানে ২০ টি ওয়ার্ড আছে। শহরের ওয়ার্ডগুলির বেশিরভাগ রাস্তাই পাকা। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের গলি রাস্তাগুলি অনেকদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। এবছর বর্ষার পর থেকে রাস্তা গুলির অবস্থা এখন আরও করুণ দশা। পুরসভার ৩,৪,১৬, ও ১৭,১৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তাই ভেঙে গিয়েছে। ওয়ার্ডগুলির বিশেষ করে গলির রাস্তা গুলি দীর্ঘদিন থেকেই ভাঙা অবস্থায় আছে। লোকসভা ভোটের আগে কিছু রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল কম। তাই অধিকাংশ ওয়ার্ডের রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে পুরসভার নাগরিকদের মধ্যে। ভাঙা পাকা রাস্তার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শহরের কাচা রাস্তা। পুরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই বিভিন্ন গলিতে কাঁচা রাস্তা আছে। বিশেষ করে কলেজপাড়া, সূর্যনগর, শান্তি নগর, লেবুবাগান সহ অন্য ওয়ার্ডগুলিতে এখনও কাঁচা রাস্তাই ব্যবহার করেন বাসিন্দারা। ওই ওয়ার্ড গুলিতে প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দারার যোগাযোগের আজও ভরসা কাঁচা রাস্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল পাল বলেন, ‘কয়েকটি ওয়ার্ডের গলির রাস্তাগুলি অনেক দিন থেকেই ভাঙা অবস্থায় আছে।আগে কাউন্সিলাররা থাকার সময় ওয়ার্ডের নানা সমস্যার কথা তাঁদের জানাতে পারতাম। এখন তাঁরা না থাকায় পুরসভার প্রশাসকের কাছে সব কিছু জানাতে পারছি না। এতে ওয়ার্ডের সমস্যাগুলি আরও বাড়ছে।ওয়ার্ডগুলির রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
লেবু বাগান এলাকার গৃহবধূ কণিকা রায় বলেন, ‘এই এলাকায় বিয়ে হয়ে এসেছি প্রায় ৩০ বছর হয়ে গেল। প্রথম থেকেই দেখছি কাঁচা রাস্তা। আমরা বহুবার এলাকার রাস্তাগুলি পাকা করার জন্য কাউন্সিলারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন পুরসভায় প্রশাসক বসায় তিনি তো আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না।
পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অনিন্দ ভৌমিক বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন অনেক ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তা পাকা করেছিলাম। তৃণমূল বোর্ড দখল করার পর আর একটি রাস্তাও পাকা হয়নি। প্রশাসকও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তবে পুরসভার কাঁচা রাস্তা সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে শীঘ্রই আমরা পুরসভার প্রশাসককে ডেপুটেশন দেব।’
ছবিঃ আলিপুরদুয়ার পুরসভার অরবিন্দনগর পিলখানা এলাকার রাস্তা।

তথ্য ও ছবি : ভাস্কর শর্মা

- Advertisement -