দুবছরেও অধরা আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়

আলিপুরদুয়ার : ঘোষণার পর দুটি শিক্ষাবর্ষ চলে গেলেও এখনও শুরু হল না আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সীমানাপ্রাচীরের কাজ শুরু হলেও করোনার দাপটে এখন তাও বন্ধ। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্য একবছর আগে সার্চ কমিটি গড়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই সার্চ কমিটি আদৌ গঠন করা হয়েছে কি না তা নিয়ে জেলার শিক্ষা মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় উপাচার্য নিয়োগ, রেজিস্ট্রার, ফ্যাকাল্টি বোর্ড, বোর্ড অফ স্টাডিজ এবং ফিন্যান্স কমিটি কবে গঠিত হবে তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরু না হলে দলকে যে বেগ পেতে হবে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন শাসকদলের নেতারা।

২০১৭ সালে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর বেশ কিছুদিন পরেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান ঠিক করতে আসে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে আলিপুরদুয়ার কলেজ সহ বেশ কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করেন। এর পর আলিপুরদুয়ার কলেজেই অস্থায়ী পরিকাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় চালুর সম্মতি দেয় প্রতিনিধিদলটি। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে বিধানসভায় আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশ হয়। কলকাতা থেকে প্রস্তাবিত আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্য ৪৮ পাতার একটি গেজেট নোটিফিকেশনও বের হয়। কিছুদিন পর আলিপুরদুয়ার কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কলেজের যাবতীয় কাগজপত্র জেলা শাসকের মাধ্যমে রাজ্যে পাঠিয়ে দেয়। ওই সময় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সার্চ কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের জুলাই থেকেই যে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে তাও জানিয়ে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু তারপর দুবছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর বিষয়ে কোনও উদ্যোগ চোখে না পড়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্য যে সার্চ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলার শিক্ষা মহল। ওই সার্চ কমিটির সদস্য কারা, কমিটির বর্তমান অবস্থা কী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আদৌ সার্চ কমিটি কাজ শুরু করেছে কি না, সে বিষয়টিই পরিষ্কার নয় শিক্ষানুরাগীদের কাছে। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক তথা আলিপুরদুয়ার কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই রাজ্য অর্থ মঞ্জুর করেছে। সীমানাপ্রাচীরের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে সার্চ কমিটির বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীই ভালো জানাতে পারবেন। আমাদের আশা, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরু হয়ে যাবে। ওয়েবকুপার আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গোবিন্দ রাজবংশী বলেন, বিধানসভায় আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশ হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাজও শুরু হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিলান্যাস করবেন।

এদিকে, দুবছরেও আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ও পঠনপাঠন শুরু না হওয়ায় কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, ওই সময় লোকসভা নির্বাচনের জন্য দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হবে বলে তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে খারাপ রেজাল্ট করার পর সে কাজ থমকে যায়। আজ দুবছর হতে চললেও রাজ্য সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ করছে না। তবে সামনের বিধানসভা ভোটের আগে ফের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শাসকদল মাতামাতি করবে বলে জয়ন্তবাবু জানিয়েছেন। সিপিএম নেতা অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হোক। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র ঘোষণাই করা হয়েছে। বাকি কোনও কাজ হয়নি। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু করা হোক।