জ্বর মানেই করোনা নয়, আতঙ্কিত না হতে বলছেন চিকিৎসকরা

524

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো :  ফি বছর এই সময় অর্থাৎ বর্ষাকালে জ্বর, সর্দি, কাশি হয়ে থাকে। ভাইরাল ফিভারের উপসর্গ নিয়ে এইসময় হাসপাতালে প্রচুর রোগী ভিড় করেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ মানুষের মনে ভয় ধরিয়েছে। করোনার উপসর্গগুলিও ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাওয়ায় আট থেকে আশি সবার মনেই ভয়। জ্বর-সর্দি-কাশি হলেই করোনার আতঙ্কে ভুগছেন মানুষ। কেউ কেউ করোনার পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে ছুটছেন। আবার অনেকে জ্বর-সর্দি-কাশি হলে আতঙ্কে বাড়ি থেকেই বের হচ্ছেন না। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শও নিচ্ছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা হয়েছে কি না তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই জ্বর একদিন, দুদিনে না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

মরশুম বদলের জেরে জুলাই-অগাস্ট মাস এমনকি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত জ্বর-সর্দি-কাশি হয়। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম এবং পরক্ষণেই বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় এই সমস্যাগুলি দেখা দেয়। আবার একটু বৃষ্টিতে ভিজলে খুব দ্রুত শরীর খারাপ হয়ে যায়। এবারও তেমনটাই হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে মাঝে মাঝে বৃষ্টি এবং চড়া রোদ, গরমের জেরে তাপমাত্রা অহরহ বদলে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময় খুবই সতর্ক থাকতে হবে। বৃষ্টিতে একেবারেই না ভেজা, বাতানুকূল যন্ত্রের (এসি) নীচে না বসার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে রাতে খুব জোরে বৈদ্যুতিন পাখা না চালিয়ে ঘুমোনোই ভালো। আর জ্বর হলেই করোনার আতঙ্কে না ভুগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে জ্বর-সর্দি-কাশি যাতে না হয় সেইজন্য সতর্ক থাকা জরুরি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির ফিভার ক্লিনিকে রোজ প্রচুর রোগীর ভিড় হচ্ছে। হাসপাতালগুলি সূত্রে জানা গিয়েছে, যত রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসছেন তার সিংহভাগেরই জ্বর-সর্দি-কাশি রয়েছে। তাঁরা করোনা সন্দেহেই চিকিৎসকের কাছে আসছেন এবং করোনার পরীক্ষা করানোর দাবি করছেন। কিন্তু সবার তো করোনার উপসর্গ থাকছে না। যাঁদের প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে, তাঁদের লালার নমুনা নেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

করোনার উপসর্গ

শুকনো কাশি হবে

ঘ্রাণশক্তি কমবে

শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে

শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে

ভাইরাল ফিভারের উপসর্গ

শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকবে

সর্দি-কাশি থাকতে পারে

হাঁচি হবে এবং নাক দিয়ে জল পড়বে

৩-৫ দিনের মধ্যেই উপসর্গ কমে যাবে

চিকিৎসকদের মত

আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক ফিভার ক্লিনিক রয়েছে। জ্বর ও করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর মানেই যে করোনা নয় সেটা বুঝতে হবে।

ডাঃ রাজীব প্রসাদ, এমএসভিপি, কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

জ্বর, সর্দি, কাশি যাই হোক না কেন যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যেতে হবে। তারপর চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। অয়থা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

ডাঃ শিখা গঙ্গোপাধ্যায়, সম্পাদক, আইএমএ

এই মরশুমে জ্বর, সর্দি, কাশি হওয়া স্বাভাবিক। জ্বর, সর্দি হলেই যে তাঁর করোনা হয়েছে তার কোনও মানে নেই। তবে যাই হোক না কেন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডাঃ শিবাজি ভট্টাচার্য

আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাল ফিভার হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু করোনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তাই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জ্বর-কাশি সহ অন্য উপসর্গগুলি দেখা দিলে অবশ্যই করোনা টেস্ট করা দরকার।

ডাঃ যুধিষ্ঠির দাস

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার চাই। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবিটিস, ক্যানসার ও কিডনির সমস্যা আছে তাঁদের এই সময় পুষ্টিকর আহার খেতে হবে। সেই সঙ্গে শারীরিক কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

ডাঃ পার্থপ্রতিম দাস

গর্ভবতীদের এই সময় বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এই সময় জ্বর, সর্দি হলেও অনেকে করোনার জন্য ডাক্তার দেখাতে ভয় পাচ্ছেন। এটা করলে চলবে না। যে কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডাঃ দেবযানী সেন শর্মা

এই সময় সাবধানতা মেনে চলাই একমাত্র উপায়। ভয় পাবেন না, সতর্ক থাকুন। সর্দি, কাশি, জ্বর করোনার আগেও ছিল এখনও আছে। এইসব উপসর্গ থাকলে ঘাবড়ালে চলবে না। তাড়াতাড়ি নিকটবর্তী হাসপাতালে ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিতে হবে।

ডাঃ মানস সরকার

সাধারণ জ্বর হলে রোগীকে বাড়িতে রেখে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। দুদিন পরেও জ্বর থাকলে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখাতে হবে। করোনা সংক্রান্ত খবরে বেশি মনোযোগ না দিয়ে দুশ্চিন্তাগুলি দূরে রাখতে হবে।

ডাঃ নির্মল বেরা

বর্তমানে যে আবহাওয়া তাতে জ্বর আসা স্বাভাবিক। তবে খুব বেশি জ্বর এলে বা জ্বরের সঙ্গে ডায়ারিয়াও শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডাঃ ইন্দ্রনাথ ঘোষ

জ্বর হলে বাড়িতে থেকেই প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। বেশি করে জল খেতে হবে। চার-পাঁচদিনেও শরীর ঠিক না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে লালার নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।

ডাঃ প্রেম দোরজি ভুটিয়া

আমরা বলি করোনা হোক বা না হোক ভিটামিন সি এবং মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট প্রত্যেকের খাওয়া দরকার। তবে জ্বর একদিনের বেশি থাকলে এবং সেই সঙ্গে গলাব্যথা, স্বাদ-গন্ধ যদি না থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ডাঃ পান্থ দাশগুপ্ত

জ্বর জ্বর মনে হলেই আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি জ্বরের সঙ্গে খুব বেশি শ্বাসকষ্ট দেখা যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসক বা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আর এখন উপসর্গহীন করোনা রোগীদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা যাবে।

ডাঃ বরুণকুমার বিশ্বাস

হালকা উপসর্গ থাকলে একটা প্যারাসিটামল খেতে পারেন। সেই সঙ্গে বেশি করে জল খাওয়া, ভালো খাবার খাওয়া এবং শরীরচর্চা করা দরকার। তাহলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং আসছেনও।

ডাঃ মানসকুমার দত্ত