চা বাগানে এক হচ্ছে তৃণমূলের সব সংগঠন

158

স্বরূপ বিশ্বাস, কলকাতা : রেজিস্ট্রেশন হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের চা-বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের। এখন থেকে চা-বাগানগুলিতে একমাত্র এই ব্যানারেই থাকবে শাসকদল তৃণমূলের একমাত্র শ্রমিক সংগঠন। এজন্য উত্তরবঙ্গের চা-বাগান সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে সংগঠনের জেলা ইউনিট গঠনের তোড়জোড়ও শুরু হচ্ছে। বাগানগুলিতে থাকবে জেলা ইউনিটের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য। ইতিমধ্যে শাসকদলের একমাত্র শ্রমিক সংগঠনের অফিসও খোলা হয়েছে শিলিগুড়িতে। শুধুমাত্র ভোটের কারণেই এতদিন ইউনিয়ন গড়া হলেও তার রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এবার হবে।

দলের খবর, তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ২০১১-য় ক্ষমতায় এসেই চেষ্টা করে চলেছেন চা-বাগানগুলিতে দলের শ্রমিক সংগঠনগুলিকে একছাতার তলায় নিয়ে আনতে। এজন্য কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। বারবার তদানীন্তন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটককে মুখ্যমন্ত্রী দলের ইউনিয়নগুলির মধ্যে ঐক্য ফেরাতে উত্তরবঙ্গে পাঠিয়েছেন। তৃণমূলেরই একাধিক শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মলয়বাবু বৈঠকও করেন। তৃণমূল দলের একটিমাত্র ইউনিয়ন গড়ে তোলার বিষয়ে জোরও দেন তিনি। তার রূপরেখাও তৈরি হয়ে যায়। শিলিগুড়িতে অফিস করে একমাত্র ইউনিয়ন গড়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয় দলের শ্রমিক নেতাদের। শুধু ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি ভোট এসে যাওয়ায়। পাছে ভোটে এর প্রভাব পড়ে। ভোটপর্ব মিটে গিয়েছে। এখন জোরকদমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

দলের খবর, এই কাজ সম্পন্ন করবেন আইএনটিটিইউসির নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে এতদিন দলের কাজে দায়িত্বে থেকে ঋতব্রত দলনেত্রীর আস্থা অর্জনে সফল হয়েছেন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে তৃণমূলনেত্রী সদ্য কাজের লোক হিসেবে ঋতব্রতকে দলের শ্রমিক সংগঠনের মহাদায়িত্ব দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে দলের কাজের দায়িত্বে থেকে ঋতব্রত চা-বাগান এলাকাগুলিতেও গিয়ে কাজ করেছেন। এখন তিনি শাসকদলের শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলির রাজ্য সভাপতি।

দলনেত্রীর সবুজসংকেত পেয়ে এই কাজে হাত দিতে চলেছেন তিনি। চিন্তাভাবনার পাশাপাশি দ্রুত দায়িত্ব পালনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন বলেই দলের খবর। নবনিযুক্ত আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রতর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সবে দায়িত্ব পেয়েছি। নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কাজ করতে চাই যথাযথভাবে। চা বাগানে দলের শ্রমিক সংগঠন নিয়ে কাজ তো হবেই। নেত্রীর ইচ্ছাপূরণেও পদক্ষেপ করা হবে।

ঋতব্রতর কথাতেই স্পষ্ট, এবার রাজ্যের চা-বাগানগুলিতে দলের শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে ঐক্য ফেরাতে সচেষ্ট হবেনই তিনি। নেত্রীর ডাক, দলের শ্রমিক সংগঠনগুলিকে একছাতার তলায় আনতেই হবে। কোনও অনৈক্য এক্ষেত্রে বরদাস্ত করা হবে না। দলের সব শ্রমিক নেতাকে একটিমাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণেই থাকতে হবে। অন্যথায় সদস্যদের দায় নেবে না দল। নেত্রীর এই বার্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের দলের চা-বাগান শ্রমিক নেতাদের কাছে। নেত্রীর কড়া বার্তার পরে এবার তাঁদের ভূমিকা কী হয়, সেটাই দেখার।