ত্রাণ বিলির আড়ালে ভোট প্রচার লক্ষ্য, কোমর বেঁধেছে সব রাজনৈতিক দল

274

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : লকডাউনের জেরে কর্মহীন হয়ে ঘরে আটকে পড়া গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোচবিহারে বহু রাজনৈতিক নেতাকে দিনের পর দিন ত্রাণ বিলি করতে দেখা গিয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নেতারা শুধুমাত্র গরিব মানুষকে সাহায্য করার লক্ষ্যেই এই ত্রাণ দিচ্ছেন না, এর পিছনে ভোটের রাজনীতি কাজ করছে। সামনে পুরসভা ও বিধানসভা ভোট আছে। এই পরিস্থিতিতে করোনাকে কাজে লাগিয়ে ভোটের জন্য জমি তৈরি করতেই ত্রাণ বিলি করছে। যদিও ত্রাণ বিলির সঙ্গে ভোটের সম্পর্কের কথা মানতে রাজি নয় কোনও রাজনৈতিক দলই।

লকডাউনে নিয়ম করে কোচবিহার শহরে বাড়ির সামনে বা নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে শয়েশয়ে মানুষকে ত্রাণ বিলি করছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গতবছর লোকসভা ভোটে তাঁর কেন্দ্রে বিজেপি লিড পেয়েছে। সেই কারণেই তিনি মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। অপরদিকে তিনি যেহেতু দীর্ঘদিন দলের জেলা সভাপতি ছিলেন, সেই কারণে পুরভোটে তাঁর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এটা হতে পারে না। সেইজন্য শহরেও তিনি ত্রাণ দিয়েছেন। যদিও রবিবাবু বলেন, এটা রাজনীতির সময় নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহায্য করা দরকার। এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।

- Advertisement -

কোচবিহার পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শুভজিত্ কুণ্ডুকেও প্রতিদিন ত্রাণ বিলি করতে দেখা যাচ্ছে। ২০১৫ সালে তাঁর মা তথা কোচবিহার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রেবা কুণ্ডু চেয়ারপার্সন থাকাকালীন পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালে রেবা কুণ্ডুকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওযা হয়। রেবাদেবী ও শুভজিতের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্য নেতৃত্বের সুনজরে আসতে তিনি এই কর্মসূচি নিয়েছেন। যদিও শুভজিত্ কুণ্ডু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো বেশি প্রযোজন। এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যনির্বাহী সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ও শহর ও গ্রামে ত্রাণ বিলি করেছেন। কোচবিহার পুরসভা ভোটে নিয়ন্ত্রণ রাখতেই তিনি শহর এলাকায় ত্রাণ বিলি করছেন। যদিও ত্রাণ বিলির সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক মানতে চাননি পার্থবাবু। কোচবিহার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন ভূষণ সিংও শহরে প্রচুর ত্রাণ বিলি করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে পুরসভা ভোটে টিকিট পাওযার লক্ষ্যে ত্রাণ বিলি করছেন। যদিও তিনি এই অভিযোগ মানতে চাননি।

শুধু শাসকদল নয়। বিজেপির জেলা সভাপতি মালতী রাভা ও দলের অনেকে কোচবিহার শহরে ত্রাণ বিলি করেছেন। লোকসভায় জয়ের পর কোচবিহার পুরসভা নির্বাচন এবার বিজেপি পাখির চোখ করেছে। সেই কারণেই ত্রাণ বিলির আড়ালে শহরে নিজেদের ভিত আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। মালতীদেবী অবশ্য বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতেই আমরা ত্রাণ বিলি করছি। এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।  জেলা কংগ্রেস সভাপতি শ্যামল চৌধুরী বলেন, রাজ্য সরকার আদৌ পুরভোট করাবে কি না তার কোনও ঠিক নেই। তাই পুরভোটকে লক্ষ্য করে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে না। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা বলেন, ত্রাণ বিলির সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।