নির্বাচনি ফল প্রকাশের পর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বদলীয় বৈঠক

158

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: নির্বাচনি ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক হিংসা অব্যাহত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজগঞ্জ থানার তরফে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। বুধবার রাজগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোট গণনার দিন থেকে এখনও পর্যন্ত রাজগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসা অব্যাহত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে। তবে বেশ কিছু জায়গা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আসছে। বেলাকোবা, টাকিমারি, ভুটকি, পাগলাহাট, ভাঙ্গামালি, মঘাপাড়া ছাড়াও ফুলবাড়ির কয়েকটি এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ আসছে। শাসকদলের হুঁশিয়ারির ভয়ে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রেই তৃণমূল-বিজেপি উভয়ের তরফেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজগঞ্জ থানার পুলিশের তরফে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জলপাইগুড়ির ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) সমীরকুমার পাল, রাজগঞ্জ থানার আইসি পঙ্কজকুমার সরকারের উপস্থিতিতে এদিনের বৈঠকে পুলিশের তরফে সব রাজনৈতিক দলকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া বিজয় মিছিল অথবা কোনওরকম জমায়েত করতে নিষেধ করা হয়। এরপরও শান্তি বিঘ্নিত হলে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয় পুলিশ। বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা তথা আইএনটিটিইউসি-র জলপাইগুড়ি জেলার কার্যকরী সভাপতি তপন দে জানান, বিজেপির কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার করছে। বিজেপি নেতৃত্বকে তা নিয়ন্ত্রণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। যেসব বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া রয়েছে তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। অন্যদিকে, বিজেপি-র রাজগঞ্জ দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি বিধান ঝা জানান, তাঁরা শান্তির পক্ষে। যদি দলের কেউ মিথ্যা প্রচার করে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে তাঁদের কোনওরকম আপত্তি থাকবে না।

- Advertisement -

অন্যদিকে, এদিন মেটেলি ব্লক প্রশাসনের তরফে বিডিও অফিসে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মেটেলির বিডিও বিপ্লব বিশ্বাস জানান, এই ব্লকের জনগণ খুব শান্তিপ্রিয়। ব্লকের কোথাও যেতে রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনা না ঘটে তার জন্যই এদিনের এই সর্বদলীয় বৈঠক। বৈঠকে মেটেলি থানার আইসি গৌতম রায় সহ সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পর উত্তরবঙ্গে সর্বাধিক উত্তপ্ত কোচবিহার। সন্ত্রাসের কারণে এই মুহূর্তে ঘরছাড়া প্রায় এক হাজারের উপরে মানুষ। জখম হয়েছেন শতাধিক। তুফানগঞ্জ মহকুমা জুড়েও রাজনৈতিক হিংসার খবর মিলছে। পাশাপাশি বাড়ছে করোনা সংক্রমণও। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল প্রশাসন। তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসক কৌশিক সিনহা জানান, কোভিড পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক হিংসা দমনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি প্রণবকুমার দে জানান, দলের কর্মীদের শান্তি বজায় রাখতে বলা হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, আমরা শান্তির পক্ষে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তমসের আলির বক্তব্য, কেউ রাজনৈতিক হিংসার বলি হোক। এই নীতিতে তাঁরা বিশ্বাসী নন।

পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে হলদিবাড়ি ব্লকের বিডিও অফিসেও সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,পুর এলাকা সহ ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে করোনা সচেতনতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিডিও তাপসী সাহা, মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আলোকরঞ্জন মুন্সি, আইসি দেবাশিস বসু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। আইসি আইসি দেবাশিস বসু জানান, আইন শৃঙ্খলা ভাঙলে পুলিশ কাউকে রেওয়াত করবে না।