বিমান দুর্ঘটনায় সব যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা

177

জাকার্তা: মাঝ আকাশ থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা বাদেও ইন্দোনেশিয়ার বিমানের খোঁজ মেলেনি। উত্তর জাকার্তার থাউজ্যান্ট আইল্যান্ডস সংলগ্ন সমুদ্রে বিমানটি ভেঙে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারী দল ওই এলাকায় কিছু তার ও ধাতব টুকরোর হদিস পেয়েছিল। তবে সেগুলি ভেঙে পড়া বিমানের কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রবিবার উত্তর জাকার্তার সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসা কিছু মানুষের দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেহাংশগুলি বিমানযাত্রীদের বলে মনে করা হচ্ছে। বিমানটি সমুদ্রে ভেঙে পড়ায় কোনও যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম বলেই অনুমান উদ্ধারকারী দলের।

ইন্দোনেশিয়া পুলিশের মুখপাত্র ইউসুরি ইউনুস জানান, বিমানের খোঁজে ১০টি জাহাজ তল্লাশি চালাচ্ছে। ডুবুরিদের সমুদ্রে নামানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করা হচ্ছে। রবিবার সকালে উপকূল এলাকার কাছে কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। যাত্রীদের একটি ব্যাগও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানের মূল কাঠামো বা ব্লাক বক্সের হদিস মেলেনি বলে ইউনুস জানিয়েছেন। শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জাকার্তার সোকরানো হাত্তা বিমানবন্দর থেকে শ্রীবিজয়া এয়ারলাইন্সের বিমানটি উড়েছিল। যাত্রার ৫ মিনিট বাদে সেটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিমানটিতে ৫৬ জন যাত্রী ও ৬ বিমানকর্মী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে এক সদ্যোজাত সহ ৬টি শিশু ছিল।

- Advertisement -

ইন্দোনেশিয়া সরকারের এক আধিকারিক জানান, দুর্ঘটনার কারণ জানা য়ায়নি। বিমানটি যাত্রা শুরু করার প্রথম ৪ মিনিটে ১০ হাজার ৯০০ ফুট ওপরে উঠেছিল। পরের এক মিনিটের মধ্যে সেটি হাজার ফুট নেমে আসে। এর পরেই সেটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানটি প্রায় ২৬ বছর ধরে পরিষেবা দিচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইন্দোনেশিয়ার সরকার ও বোয়িং আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে। বোয়িংয়ের তরফে জারি এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রী ও বিমানকর্মীদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।