রাজনীতিতে বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা করিমুলকে নিয়ে টানাটানি

210

নাগরাকাটা : উত্তরবঙ্গের আইকন করিমুল হক। মানুষের সেবার জন্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ে। করিমুল হককে নিয়ে ভোট বাজারে রাজনৈতিক দলগুলি টানাটানি করবে না, তা কী হয়! সেটাই শুরু হয়েছে। ভোট প্রচারে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রস্তাব গিয়েছে ক্রান্তির ধলাবাড়ি গ্রামের সরল সাধাসিধে মানুষটির কাছে। যদিও সেসব খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, শুধু কি প্রচার! সরাসরি দলীয় পতাকা ধরার আবদারও এসেছিল দলগুলির কাছ থেকে। সবাইকে বিনীতভাবে জানিয়ে দিয়েছি, কারও সঙ্গে কোনও মনোমালিন্য নেই। তবে আমি কোনওরকম রাজনীতিতে নেই। ওসব থেকে আমি দূরে থাকতে চাই। জীবনের লক্ষ্য একটাই। সেটা হল মানবসেবা। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।

রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয় এড়িয়ে চললেও প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেতাদের কথা না রাখার বিষয়গুলি তাঁকে কষ্ট দেয়। একরাশ ক্ষোভ তৈরি করে। করিমুলের আক্ষেপ, এখনও ক্রান্তি থেকে মালবাজার যাওয়ার সহজতম পথে চেল নদীর ওপর সেতু তৈরি হল না। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য, দুই সরকারের কাছেই বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। অন্যদিকে ডুয়ার্স থেকে শিলিগুড়িগামী ৩১সি জাতীয় সড়কে করোনেশন সেতুর স্থানে বিকল্প সেতু তৈরিতেও কারও কোনও উদ্যোগ নেই। এসব নিয়ে সবার কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা দয়া করে দেখুন। ভোট আসবে-যাবে, পিছিয়ে থাকবে উন্নয়নের কাজ। স্থানীয়দের পাশে দাঁড়ান।

- Advertisement -

করিমুলের বক্তব্য, যার যেটা ভালো সেটা বলব। যা খারাপ সেটা তুলে ধরতেও কোনও সমস্যা নেই। উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা চাঙ্গা করতে এখানে এইমস ধাঁচের হাসপাতাল দরকার। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সমস্যায় পড়তে হয়। চেল নদীর ওপর সেতু না থাকায় তাঁদের জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে মালবাজার পৌঁছাতে গেলে ৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। রাতবিরেতে ঘুরপথের লাটাগুড়ির ওই জঙ্গলে বুনোদের পাল দাঁড়িয়ে থাকে। প্রায়শই প্রসবের জন্য এজন্য হাসপাতালে পৌঁছাতে আরও দেরি হয়ে যায়। গাড়িও যেতে চায় না। অথচ ওই সেতুটা যদি তৈরি হয়ে যেত তবে মালবাজারের দূরত্ব দাঁড়াত মাত্র ১৫ কিলোমিটারে।

বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা করিমুল হক নিজের গ্রামের বাড়িতেই মানব সেবাসদন নামে একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। সেখানে বিনামূল্যে দুঃস্থ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এজন্য সহৃদয় বেশ কিছু ডাক্তার তাঁর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার সেবাসদনে এক্সরে বা আল্ট্রাসনোগ্রাফির ব্যবস্থা নেই। যা খুব দরকার। ২০০ টাকার এক্সরে করাতে গাড়ি ভাড়া করে মালবাজার বা জলপাইগুড়ি যেতে ১২০০ টাকা গুনতে হয়। এক্সরে মেশিন বসানোর চেষ্টা করছি। ওটা বাস্তবাযিত হলে সময়মতো জানাব। তবে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ব্যবস্থা কীভাবে করব জানা নেই। কেউ এগিয়ে এলে বহু মানুষ উপকৃত হত।