ধর্মের গণ্ডি ভেঙে আর্তের সেবা শিলিগুড়িতে

108

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : সাধারণের জন্য গুরুদ্বার বন্ধ। কিন্তু ভিতরে কোভিড সংক্রামিতকে অক্সিজেন জোগানোর প্রস্তুতি চলছে। শিলিগুড়ি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক সমিতির সভাপতি গুরচরণ হোড়া বলেন, সোমবার থেকে আমরা বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করব। চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে সংক্রামিতদের বাড়ি বাড়ি খাবার বিতরণ করছে ইসকন। সংগঠনটির পূর্ব ভারতের  জনসংযোগ আধিকারিক নামকৃষ্ণ দাসের কথায়, তিনটে রুট ঠিক করে দুটো গাড়ি ও একটি বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ছি। শিলিগুড়ি মহকুমায় ক্যাথলিক চার্চের প্রধান কার্যালয় বিশপ হাউসে বসে বিশপ ভিনসেন্ট আইন্ড চিকিৎসকদের নির্দেশ মতো কোভিড প্রতিরোধী ওষুধ প্যাকিং করতে ব্যস্ত। বিশপের বক্তব্য,  প্রধানত শহর সংলগ্ন গ্রামগুলিতে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষকে ভাইরাস থেকে বাঁচাতে এই চেষ্টা। আর সকলের মতো সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধ্য মতো উদ্যোগ নিচ্ছে মুসলিম সংগঠন আঞ্জুমান-খিদমাত্-ই-খলক। সংগঠনের সম্পাদক ফিরোজ খানের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাড়ায় পাড়ায় স্যানিটাইজেশনের প্রক্রিয়া শুরু হবে শীঘ্রই।

ধর্মীয় পরিচয়ে গন্ডি ছাড়িয়ে কোভিড পরিস্থিতিতে প্রতিটি সংস্থাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে আর্তের কল্যাণে। পথ আলাদা। বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাজ করছে কোভিড মোকাবিলায়। কিন্তু লক্ষ্য সবার এক, মানবজাতির মঙ্গল। রামকৃষ্ণই যে শিখিয়েছেন, যত মত, তত পথ। বিশপ ভিনসেন্ট আইন্ড বলেন, করোনা যাবতীয় ধর্মীয় বিভেদ, দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে। ফিরোজ খানের বক্তব্য, ধর্ম দেখে জনসেবা হয় না। সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে।

- Advertisement -

শিলিগুড়ি শ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটির (রামকৃষ্ণ আশ্রম) পরিচালন সমিতির সম্পাদক কমল মজুমদার রবিবার ব্যস্ত ছিলেন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সাহায্যের পরিকল্পনা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করতে। তিনি বলেন, আশ্রমে আসা ভক্তদের আমরা যাবতীয় সহযোগিতা করছি। আশপাশের এলাকাতেও খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।

ফোনে ভক্তদের সংক্রামিতদের সাধ্য মতো পাশে দাঁড়ানোর উপদেশ দিচ্ছেন শিলিগুড়িতে ভারত সেবাশ্রম সংঘের নিত্যানন্দ মহারাজ। তাঁর কথায়, কেউ করোনা সংক্রামিত হতেই পারেন। তাই বলে তাঁকে অচ্ছুত্ করা যায় না। যদিও প্রতিবন্ধকতাও কম নয়। নিত্যানন্দ মহারাজ বলেন, গতবছর খিচুড়ি বিতরণ করেছিলাম। এবার লাইন দিয়ে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে বলে। তাছাড়া অর্থও বড় সমস্যা।

আঞ্জুমান-খিদমাত্-ই-খলকের ফিরোজও জানালেন, অর্থের জন্য তাঁরা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে সেফ হাউসে পরিণত করা হয়েছে। শিলিগুড়িতেও ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নগরের হস্টেলটিকে সেফ হাউসের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিশপ ভিনসেন্স আইন্ড জানালেন। ফিরোজ জানান, তাঁরাও প্রস্তুত। ইসকনের নামকৃষ্ণের বক্তব্য, আমাদের সেরকম পরিকাঠামো নেই ঠিকই। পরিস্থিতি তেমন হলে আমরা তৈরি।