পিকের নির্দেশে ফালাকাটার সব পরিবারে নজর তৃণমূলের

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) টিমের নির্দেশে ফালাকাটায় দলের বুথস্তরের গুরুত্ব বাড়তে চলেছে। দলের শীর্ষনেতৃত্ব বারবার এখানে এসে জানিয়ে দিয়েছেন, বুথস্তরে দলকে শক্তপোক্ত করতে না পারলে নির্বাচনে জেতা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি বুথ সভাপতির মাধ্যমে ভোটার তালিকা ধরে সমীক্ষা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বুথের প্রতিটি পরিবারের প্রতি নজর রাখতে নীচুস্তরের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ক্লাস্টার তৈরি করে ময়দানে নামতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল। এজন্য প্রত্যেক বুথ থেকে দশজন করে সক্রিয় কর্মীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, নামের সেই তালিকা ইতিমধ্যে রাজ্যস্তরে চলে গিয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি বুথ দেখার দাযিত্ব থাকবে দশজন কর্মীর কাঁধে। তাঁরা পরিবার ভাগ করে নিবিড় জনসংযোগ তৈরি করবেন। উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ফালাকাটায় এসব কৌশল নেওয়ায় বিজেপির ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও বিজেপি তৃণমূলের এরকম কৌশলকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল ফালাকাটা। কিন্তু গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদলের এই শক্ত ঘাঁটিতেই ফোটে পদ্মফুল। ১৩টির মধ্যে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে আরও অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় তৃণমল। ওই ভোটে তৃণমূলের চেয়ে ২৭ হাজার ভোট বেশি পায় বিজেপি। তৃণমূলের এই খারাপ পরিস্থিতিতে গত ৩১ অক্টোবর প্রয়াত হন বিধায়ক অনিল অধিকারী। এজন্য চলতি বছরেই এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

- Advertisement -

এই নির্বাচনের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ফালাকাটায় বিশেষ নজর রয়েছে পিকের। দলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বুথস্তরের নানা দুর্বলতার কথা। পিছিয়ে থাকা অধিকাংশ বুথের কর্মীরাই ঝিমিয়ে পড়েছেন। তৃণমূলের দুর্বলতার এই সুযোগ নিচ্ছে বিজেপি। এজন্য বুথস্তরে দলকে চাঙ্গা করার নির্দেশ দিয়েছেন পিকে। সেই নির্দেশ অনুসারে ছক কষে এগোতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সম্প্রতি ফালাকাটায় প্রতিটি অঞ্চল ধরে বুথভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন দলের রাজ্য সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জেরে এখন সাময়িকভাবে প্রকাশ্য কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। তবে বুথকর্মীদের বুথের কাজ করতে বলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফালাকাটায় ২৬৬টি বুথের প্রতিটিতে ১০ জন করে ২ হাজার ৬৬০ জন সক্রিয় বুথকর্মীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একটি বুথে যদি ১০০টি পরিবার থাকে তাহলে ১০ জন কর্মীর মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়া হবে।

প্রত্যেক কর্মীকে ১০টি করে পরিবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে হবে। ওই কর্মীরা প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কার কী সমস্যা সেটাও বুথকর্মীকে জেনে নিতে হবে। তৃণমূলের দাবি, এভাবে জমায়ে এড়িয়ে প্রতিটি পরিবারের দিকে নজর রেখে দলের কাজ চলতে থাকবে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন বলেন, এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাইরে কিছু বলব না। তবে বুথস্তরে দলকে চাঙ্গা করা হচ্ছে। কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বুথকর্মীরাই দলের সম্পদ। দলের রাজ্য সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের কর্মীরা কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে আছেন। এখন এই পদ্ধতিতে মানুষের সঙ্গে আরও বেশি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হবে। ফালাকাটায় প্রতিটি পরিবারের দিকে নজর রেখেই দল এগোবে।

তবে তৃণমূলের এই কৌশলকে পাত্তা দিতে চায়নি বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, আমাদের কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প এবং ফালাকাটার প্রতিটি অঞ্চলে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছেন। তৃণমূলের কোনও কৌশলই আর কাজে আসবে না।