জঞ্জালে ভরে রয়েছে আলিপুরদুয়ারের সব ঝিল, উদ্যোগ নেই সংস্কারের

122

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : মজে যাওয়া ঝিলের জঞ্জাল অপসারণ ও সংস্কারের এখন আদর্শ সময় হলেও আলিপুরদুয়ার পুরসভা হাত গুটিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। পুরসভা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনায় সরব হয়েছেন শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিরোধীরাও। শহরের নাগরিকদের অনেকেরই বক্তব্য, এখন শহরের অধিকাংশ ঝিলগুলিতে জল তলানিতে রয়েছে। জঞ্জাল অপসারণের জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। কয়েক মাস বাদে বর্ষা এলে ঝিলের জঞ্জাল অপসারণ থেকে সংস্কারের কাজ কোনওটাই সম্ভব হবে না। নাগরিকদের অভিযোগ, পুরসভা ও প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে শহরের কিছু মানুষ ঝিল ভরাট করে দখল নিচ্ছে। যদিও পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান মিহির দত্ত বলেন, শহরের ঝিলের বেআইনি জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। ঝিলের জলাশয় জঞ্জালমুক্ত করার বিষয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

উত্তরে দিঘির শহর যেমন কোচবিহার, তেমনি আলিপুরদুয়ার হল ঝিলের শহর। আলিপুরদুয়ার শহরে ১১টি ছোট-বড় ঝিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে কোচবিহারে অধিকাংশ দিঘিগুলির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন হলেও আলিপুরদুয়ারের ঝিলগুলি সেই সুযোগ থেকে যেন উপেক্ষিতই থেকেছে। সবুজের শহর আলিপুরদুয়ারে একসময় ঝিলগুলি শহরের শোভাবর্ধন করত, পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ঝিলগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও ছিল। কিন্তু ডুয়ার্সের এই মনোরম শহরেও আধুনিকতার ছোঁয়ায়, পুরোনো দিনের সেই কাঠের ঘরবাড়ি হারিয়ে গিয়ে একের পর এক ইটপাথরের বহুতল গড়ে উঠেছে। নগরায়ণ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেও শহরের ভারসাম্য রক্ষায় যে ঝিলগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকত, সেগুলিকে নিয়ে একটু বেশি যেন উদাসীন প্রশাসন। গত কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন ঝিলের চারদিকের জলাশয় ভরাট করে বাসিন্দাদের একাংশ দখল নিয়েছেন। সেখানে বিল্ডিং গড়ে তোলার পাশাপাশি একসময় বর্ষায় শহরের বৃষ্টির জল ঝিলে যাওয়ার পথও তাঁরা আটকে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় শহরের অধিকাংশ ঝিলে জমা জঞ্জাল, আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। বড় বড় জলাশয়গুলি এখন সাপ, পোকামাকড়ের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, ঝিলের জলাশয়গুলিকে সংস্কার করে শহরের বহু যুবক-যুবতীর আয়ের উৎস গড়ে তোলা যেত। কিন্তু সে বিষয়ে সদর্থক উদ্যোগ আজও দেখা যায়নি। জলাশয়গুলিতে বোটিং ছাড়াও চারপাশ সাজানো যেত। শিশু ও বয়স্কদের কাছে ঝিলগুলির পরিবেশ পরিকাঠামো উন্নয়ন হলে ঘুরে বেড়ানোর ঠিকানা হতে পারত। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি শহরে জমির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, তাই সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষরাও পুরসভার উদাসীনতার সুযোগে সরকারি ঝিল দখল করে বহুতল নির্মাণ করতেও পিছপা হচ্ছেন না। বাণিজ্যিক ও ঘনবসতি বহু এলাকার ঝিলে জল না থাকায় অনেক সময়  আগুন লাগলেও নেভানোর জল পেতে দমকলকর্মীদের নাস্তানাবুদ হতে হয়। ঝিলগুলি গভীরতা হারানোয় বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি হলে ঝিলের জল উপচে ঘরবাড়িতে নোংরা জল, বিষাক্ত সাপ পোকামাকড় ঢুকে পড়বে। আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, শহরের ঝিলগুলি এখনই সাফাই করার আদর্শ সময়, কিন্তু সেই প্রশাসনিক তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি না। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, শাসকদলের জমি মাফিয়াদের একাংশ শহরের একের পর এক ঝিলের দখল নিচ্ছে। ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থাই পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

- Advertisement -