সন্তান কোলে পরীক্ষকেন্দ্রে এসেও স্বপ্নভঙ্গ

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার: একেই চাকরির বাজারের অবস্থা খারাপ। তারও পর করোনা পরিস্থিতি আমাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। কত মানুষের যে কাজ গিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।
মাইনে সামান্য হলেও এই পরিস্থিতিতে অঙ্গনওয়ড়ি সহায়িকা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী পদের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনেকেই একটু ভালো থাকার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন। আলিপুরদুয়ারে এই দুই মিলে ৫৯২টি শূন্যপদ রয়েছে। এই দুই পদের জন্য প্রায় ৪৫ হাজার পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। কিন্তু শনিবার ও রবিবার দুদিনই অঙ্গনওয়াড়ির পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ারে যা হল পরীক্ষার্থীরা তা সহজে স্মরণে রাখতে চাইবেন না। চাকরি পাওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের অনেকে শিশুকোলেও পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান। কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতা সুখকর মোটেই হল না। শনিবার সহায়িকা পদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ইনভিজিলেটরের সইয়ের জন্য জায়গা না থাকার বিষয়টি নিয় বেশ জলঘোলা হয়। পাশাপাশি, প্রশ্নপত্র অস্পষ্ট হওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীদের অনেকে সমস্যায় পড়েন।
রবিবার সমস্যা অবশ্য এতটুকুতে থেমে থাকেনি। নির্দিষ্ট সময়ের পরও পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র না পৌঁছানোর অভিযোগে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ, অবরোধ, ভাঙচুরের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় ওঠে। পরীক্ষাকেন্দ্রে মহকুমা শাসককে আটকে রাখা হয়। ক্ষোভের আড়ালে এদিন পরীক্ষার্থীদের অনেককেই খুব হতাশ দেখিয়েছে। তাঁদের চোখেমুখে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা স্পষ্ট। জুলি রায় নামে এক পরীক্ষার্থীর কথায়, সময়মতোই এদিন আলিপুরদুয়ার হাইস্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলাম। বেলা ১২টায় পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বেলা ১টার পরও কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র এসে পৌঁছায়নি। বহুবার ইনভিজিলেটরদের জিজ্ঞাসা করেও কোনও সদুত্তর পাইনি। এরপর সবাই মিলে বিক্ষোভে শামিল হই। শম্পা দে নামে এক পরীক্ষার্থীর কথায়, সাধ্যমতো প্রস্তুতি নিয়ে যে পরীক্ষা দিতে পারলাম না, তার দায় কে নেবে? নতুন করে পরীক্ষার দাবিতে শম্পারা সোচ্চার হয়েছেন। নয় তো তাঁরা বড়সড়ো আন্দোলনের হুঁশিযারি দিয়েছেন।
মেনকা মাহাতো নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, কোনও পরীক্ষা দিতে গিয়ে যে এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে তা এবারই প্রথমবার উপলব্ধি করলাম। এই পরিস্থিতিতে স্বজনপোষণের অভিযোগেও পরীক্ষার্থীদের একাংশ সোচ্চার হয়েছেন। সাগরিকা রায় নামে এমনই এক পরীক্ষার্থীর কথায়, আমাদের ধারণা পরীক্ষার্থীদের একাংশকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এদিন সমস্ত ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। অবিলম্বে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে পরীক্ষার্থীরা সরব হয়েছেন। ঠিক মতো তদন্ত হলে সবকিছু স্পষ্ট হবে বলেই তাঁদের দাবি। দীপশিখা চট্টোপাধ্যায় এদিনের অভিজ্ঞতাকে স্মৃতির ভাঁড়ার থেকে যত দ্রুত সম্ভব মুছে ফেলতে চাইছেন। সন্তান খুব ছোট হওয়ায় এদিন তাকে সঙ্গী করেই পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছিলেন। পরে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের দলে তিনিও শামিল হন। তিনি যখন অবরোধে বসেন সন্তান তখন তাঁর কোলে।