স্ত্রীকে নগ্ন করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

75

বর্ধমান, ২৭ মার্চ: মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নগ্ন করে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূ পূজা চালক (২৮) কে উদ্ধার করে, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার কাশেমনগর গ্রামে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে বধূর স্বামী বিজয় চালক। গৃহবধূর বাবা সুভাষ রায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গোলকোট থানার পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে । অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন প্রতিবেশী ও গৃহবধূর বাবার বাড়ির সদস্যরা।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পূজা চালকের বাবার বাড়ি ভাতার থানার বালসিডাঙ্গা গ্রামে। বছর ১০ আগে মঙ্গলকোটের কাশেমনগর নিবাসী যুবক বিজয় চালকের সঙ্গে পূজার বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। গৃহবধূর বাবা সুভাষ রায় পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর জামাই বিজয় নেশায় আসক্ত। নিত্যদিন আকন্ঠ মদ্য পান করে বিজয় বাড়ি ফিরত। নেশা করে বাড়ি ফিরে সে পূজার উপরে নির্যাতন চালাত। বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্যেও পূজার উপরে বিজয় চাপ সৃষ্টি করত। পূজা তাঁর স্বামীর
মদের নেশায় ডুবে থাকাটা মেনে নিতে না পেরে প্রতিবাদ করত। তা নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত।

- Advertisement -

সুভাষ বাবু বলেন, অনেক বুঝিয়েও কেউ তাঁর জামাইকে মদের নেশা করা থেকে বিরত করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, তাঁর জামাই বিজয় গত মঙ্গলবার রাতে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে চূড়ান্ত অশান্তি শুরু করে। তা নিয়ে তাঁর মেয়ে পূজা প্রবাদ করে। সুভাষ বাবুর অভিযোগ তখনই জামাই বিজয় জবরদস্তি তাঁর মেয়েকে নগ্ন করে ঘরের দরজা আটকে, গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাঁর আরও অভিযোগ, দগ্ধ অবস্থায় তাঁর মেয়ে সারারাত ওই ঘরের মধ্যেই পড়েছিল। বুধবার পূজাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়। তাঁর মেয়ে পূজা এখন বর্ধমান হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। সুভাষ বাবু জামাইয়ের কঠিন শাস্তির দাবি করেছেন।