ভিজিলেন্সের নামে মাসোহারা আদায় পরিবহণ দপ্তরের একাংশের

369

রণজিত্ ঘোষ, শিলিগুড়ি : ওভারলোডিং থেকে শুরু করে নিয়মিতভাবে পণ্যবাহী লরি থেকে মাসোহারা তোলা হচ্ছে। শিলিগুড়িতে পরিবহণ দপ্তরের একাংশের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরের একাংশ সূত্রের খবর, চক্রের সদস্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোলা আদায়ে পাশাপাশি এবার মাটিগাড়ায় অফিস বানিয়ে সেখানে মাসোহারা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এই চক্রে দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ জড়িয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এবিষয়ে দার্জিলিংয়ের জেলা পরিবহণ আধিকারিক সোনম লেপচা অবশ্য বলেন, এভাবে কোনো অন্যায় কাজ চালানো হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের দপ্তরের কর্মীরা নিয়মিতভাবে রাস্তায় নজরদারি চালান। দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়।

দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়িতে অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। দালাল না ধরলে সাধারণ মানুষের পক্ষে এই দপ্তরে এসে কোনো কাজ হাসিল করা সম্ভব নয় বলে অভিযোগ। গাড়ির লাইসেন্স তৈরি, লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ অন্যান্য সমস্ত কাজেই মোটা টাকা ঘুস না দিলে মাসের পর মাস ঘুরেও কোনো কাজ হয় না। অথচ দালালদের মোটা টাকা দিলে সমস্ত কাজই দ্রুত হয়ে যায়। শিলিগুড়ি কোর্ট মোড়ের এই অফিসে রীতিমতো দালালরাজ চলছে। বহু অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক অফিসার, বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের বদলি করা হলেও দুর্নীতি এতটুকু কমার বদলে বরং অনেকটাই বেড়েছে। কিছু বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে টেকনিকাল এবং নন-টেকনিকাল বিভাগের কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিচক্র তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

- Advertisement -

শিলিগুড়ির দপ্তরে এই দুই বিভাগ মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১০-১২ জন কর্মী রয়েছেন। এই কর্মীরা অফিসে কাজের পাশাপাশি রাস্তায় নেমে গাড়ির ফিটনেস, ওভারলোডিং, লাইসেন্স পরীক্ষা ও অনিয়ম দেখলে জরিমানা করার মতো কাজ করেন। কিন্তু জরিমানা করার বদলে এই কর্মীরা বিভিন্ন গাড়ি থেকে নিয়মিতভাবে টাকা তোলেন বলে অভিযোগ। এর জেরে রাজ্য সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রতি মাসে শিলিগুড়ি হয়ে চলাচলকারী প্রায় ৫০০টি পণ্যবাহী গাড়ি থেকে চক্রটি মাসোহারা তোলে। গাড়িপ্রতি পাঁচ-সাত হাজার বা তারও বেশি টাকা মাসোহারা জমা পড়ে। এই হিসাবে চক্রটি প্রতি মাসে ২৫-৩০ লক্ষ টাকা আয় করে। চলতি মাস থেকে এই চক্রটি আবার মাটিগাড়ায় পরিবহণ নগরীর পাশে একটি অফিস ঘর বানিয়ে সেখানেই মাসোহারা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। সেইভাবে এখন থেকেই সমস্ত গাড়িকে ঠিকানাটি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই অফিস কারা কীভাবে সবকিছু সামলাবে তাও চক্রটি স্থির করে ফেলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহণ দপ্তরের এক কর্মী বলেন, বড়ো বড়ো অনেক মাথাই এতে জড়িয়ে শুধু টেকনিকাল এবং নন-টেকনিকাল বিভাগের উপরই দোষ দিলে হবে না, এই তোলাবাজির ভাগ কলকাতা পর্যন্ত যায়। শিলিগুড়ির অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক নবীন অধিকারী এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে দার্জিলিংয়ে আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক সোনম লেপচা বলেন, আগে কী হয়েছে তা নিয়ে এখন ভাবার কিছু নেই। বর্তমানে দপ্তরের কাজের সমস্তটাই স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। মোটর ভেহিকলস ইনস্পেকটররা (এমভিআই) নিয়মিত রাস্তায় নেমে গাড়ি পরীক্ষা করছেন। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নজরদারি চালাচ্ছি। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগই নেই।