তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর

77

আসানসোল, ২৭ মার্চঃ বেশ কয়েকটি ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে। পুলিশের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সেই সব ঘটনায় পদক্ষেপও নিয়েছে। এবার আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন। মূলত আসানসোল উত্তর ব্লক ২ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উৎপল সিনহা ও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ঘটকের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থীর দলের কর্মীদের উপরে হামলা ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
শনিবার আসানসোলের রবীন্দ্র নগরের বিজেপি কার্যালয়ে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় একটি সাংবাদিক সন্মেলন করেন।

সেখান থেকে তিনি বলেন, যেদিন থেকে প্রচার শুরু হয়েছে, সেই সময় থেকেই বিভিন্নভাবে আমাদের প্রচার বন্ধ করার এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসানসোল পুরনিগমের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে দেওয়াল লিখন করার সময় বাধা দিয়ে শক্তি প্রমুখকে আক্রমণ করা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের দূষ্কৃতী তাঁর ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। এছাড়াও বার্ণপুরের রাঙ্গা পাড়ার বাসিন্দা বিজেপি যুব মোর্চার নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের বাড়ির সামনে গুলি চালানো হয়। একইভাবে দু’দিন আগে আসানসোল পুরনিগমের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেলপারের ওকে রোডে দলের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে বৈঠক চলাকালীন পাথর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ।ঘটনায় দলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। একইসঙ্গে গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ভাঙচুর করা হয়েছিল।

- Advertisement -

বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, গত ২৩ মার্চ হাজিকদম রসুল স্কুলে এক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসানসোল উত্তর ব্লক সভাপতি উৎপল সিনহা বলেছেন, বিজেপি প্রার্থীকে কোনও পরিস্থিতিতে রেলপারে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরজন্য যা করার আমাদের তা করতে হবে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দলের কর্মী ও সমর্থকরা যে কোনও সময় হামলার সন্মুখীন হতে পারেন। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি উৎপল সিনহা সব জায়গায় বলেছেন মলয় ঘটক রেলপারের ভোটে জয়ী হন। সুতরাং, যে কোনও পরিস্থিতিতে, অন্য কোনও পক্ষকে রেলপারে প্রচার করতে দেওয়া যাবে না।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, মলয় ঘটক রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি রেলপারের বাসিন্দাদের জন্য একটিও কাজ করেননি। আজ অবধি রেলপারে সেতু নির্মিত হয়নি। কমিউনিটি হল নির্মাণ করা হয়নি। সীমানা দেওয়ার কাজ হয়নি। তারই মহল্লায় আর্য কন্যা বিদ্যালয়টি নতুনভাবে নির্মাণের কথা ছিল। তাও হয়নি। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আরসিএইচ হাসপাতাল বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই হাসপাতালটিকে ইএসআই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ছিল। তাও হয়নি। রেলপারের বাসিন্দাদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসাবে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে এদিন তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, রেলপারে মাদক সহ নানা অপরাধমূলক কাজের র‌্যাকেট চলে। গোটা রেলপার এলাকা অন্ধকার জগতের মধ্যে রয়েছে। শাসক দলের মন্ত্রী নেতারা রেলপারকে ভালো করার কোনও চেষ্টা করছেন না। রেলপারকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করার একমাত্র বিকল্প বিজেপি। তিনি বলেন, রেলপারের যেখানে প্রচার বাধা পাবো, সেখানে আবারও প্রচারে যাবে। সাংবাদিক সন্মেলনে এদিন ছিলেন দিগ্বিজয় সিং, ইন্দ্রনীল ঘোষ, মদন মোহন চৌবে, আশা শর্মা প্রমুখ।

বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিজিৎ ঘটক বলেন, বিজেপি প্রার্থীর নামে কমপক্ষে ৫০০ দেওয়াল লেখা হয়েছে। বড় বড় হোর্ডিং লাগানো হয়েছে। সেগুলো কি করে হল? কারও দেওয়াল জোর করে লেখা হলে, বাড়ির লোকেরা তো বাধা দেবেই। আর বাড়ির লোককে মারধর করলে, আমাকে তো যেতেই হবে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি প্রার্থীর কোনও কিছু নেই। তাই এইসব কথা বলে নিজেকে হাইলাইট করে, সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।