বিদ্যালয়ের জমি দখল করে গোডাউন তৈরির অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে

123

হেমতাবাদ, ২ ফেব্রুয়ারিঃ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি নুর কালাম সহ আরও ১৭ জনের বিরুদ্ধে হেমতাবাদের বাঙ্গালবাড়ি অঞ্চলের গুটিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে গোডাউন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। যদিও, নুর কালাম বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে সামলাচ্ছেন। নুর কালাম সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, বিডিও এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন মুজিবর রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় দত্ত এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্কুলের কাছে একটি টিউবওয়েল রাতের অন্ধকারে তুলে দিয়ে সেই জায়গায় ৫০/ ২০ ফুট গোডাউন নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে প্রধান শিক্ষকের প্ররোচনা আছে। স্কুলের জায়গায় একের পর এক বাড়ি, ক্লাব ঘর, দোকানঘর তৈরি হচ্ছে। গ্রামবাসী মজিবুর রহমান জানান, আমরা বেআইনি কার্যকালাপের বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু, লাভ কিছুই হয়নি। তিনি স্কুলের সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতিরও অভিযোগ করেছেন। গুটিন বেসিক প্রাইমারি স্কুলের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য গ্রামবাসীরা সরব হয়েছেন।

- Advertisement -

এদিকে, নুর কালাম একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান, অন্যদিকে
বাঙ্গালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বামী হওয়ায় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দীপক কুমার ভক্ত বলেন, গুটিন প্রাইমারি স্কুলের জমি দখল নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় দত্ত বলেন, ওই স্কুলের বাইরে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বানিজ্য করছে। আমাদের অঞ্চল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি কোনও ভাবেই জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত নন। আমাদের দলের বদনাম করতেই এধরণের কার্যকলাপ করা হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান নুর কালাম জানান, দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে স্কুলের সীমানা প্রাচীরের বাইরে দোকান রয়েছে। আমি দোকান করিনি৷ আমার ভাইপোরা করেছেন। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর দুই আত্মীয়ের দোকান আছে। উনি এখন সাধু সাজছেন। মুজিবর বাবু দোকানদারদের থেকে ১০ হাজার টাকা করে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।