সরকারের উদ্যোগে হবু ডাক্তার বাড়িতে ফিরলেও, গ্রাম থেকে তাড়াতে চাইছেন রাজ্যে শাসকদলের নেতা

562

রায়গঞ্জ, ২ মেঃ রাজস্থানের কোটায় ডাক্তারী পড়তে যাওয়া ছাত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ঘরে ফিরলেও, স্থানীয় রাজ্যের শাসকদলের নেতার বাধায় তাঁর বাড়িতে থাকাই মুশকিল হয়ে উঠল। ঘরে ফেরার পর ওই ছাত্রীকে গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার জন্য রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি পুলিশ-প্রশাসনের নজরে আসতেই, ওই ছাত্রী বাড়িতে থাকা নিয়ে সমস্যা হয়নি। তবে, অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতার শাসানি ও হুমকিতে ছাত্রী সহ তাঁর পরিবার পরিজনেরা নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। ওই ছাত্রীর বাবা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে গ্রুপ ডি পদে কর্মরত এবং তাঁর মা এএনএম (নার্স) পদে কর্মরত। তাঁরা রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত পশ্চিম কর্ণজোড়া এলাকার বাসিন্দা। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখে, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার গভীর রাতে রাজস্থানের কোটা থেকে রাজ্য সরকারের বিশেষ বাসে চেপে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই ছাত্রীকে নিয়ে আসা হয়। বাইরে থেকে সকালে বাড়ি ফিরতেই, মেয়েকে নিয়ে ওই পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন ছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সাহেব মিঞা, মেয়েকে নিয়ে চিন্তা আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রী পরিবার। বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, বাইরে থেকে এসেছে বলে, করোনা ছড়াতে পারে। এই সন্দেহে, তাঁদের মেয়েকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বেশ কিছু মানুষকে উস্কে দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, মেয়েকে ঘিরে উড়ে আসা দুষ্কৃতীদের হুমকিতে, তাঁরা সকলেই এখন আতঙ্কে রয়েছেন। এদিন পরে ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে সমস্ত বিষয় জানানো হয়েছে। পরে কর্ণজোড়া ফাঁড়ির বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

- Advertisement -

ওই ছাত্রীর মা তনুজা খাতুন জানান, পুলিশ প্রশাসন চলে যাওয়ার পর ফের হুমকি আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সাহেব মিঞার বিষয়টি নিয়ে কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্যা লাইনুর নেহারকে ফোন করা হলে, তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি। যদিও, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মানস ঘোষ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করলে, অভিযুক্তকে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। স্থানীয় ওই তৃণমূল নেতা সাহেব মিঞার দাবি, তিনি কোনও হুমকিই দেননি। গ্রামের লোকজন বাইরে থেকে আসা ছাত্রীকে থাকতে দিতে চাইছে না। গ্রামবাসীরা উদ্বিগ্ন হয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই ছাত্রীর ওপর কোনও হামলা কিংবা কেউ চড়াও হলে, কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের তরফে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।