তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে চাঁচল কলেজ ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ

828

চাঁচল, ২৩ নভেম্বরঃ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে কলেজের ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠল। সোমবার চাঁচল কলেজে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আক্রান্ত রবিউল বাবর বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।এদিন সন্ধ্যায় রবিউল মারধরে ঘটনায় জড়িত ৫ জন ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।

জানা গিয়েছে, রবিউল বাবর কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের সমর্থক। রবিউল বাবর অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি এদিন মাইনোরিটি স্কলারশিপের কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য কলেজে গিয়েছিলেন। কিন্তু, কলেজে প্রবেশের পথেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাবু সরকারের নের্তৃত্বে আরও কয়েকজন নেতা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে লোহার রড নিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়।

- Advertisement -

ঘটনায় তাঁর বুকে প্রচন্ড আঘাত লাগে। আরও অভিযোগ, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। গলা চেপে ধরা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করা হয়। কলেজের ছাত্ররা পরে তাঁকে প্রাণে বাঁচায়। তাঁর পকেট থেকে ৩ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন রবিউল। আহত বাবরকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। যদিও, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র পরিষদ ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা বাবু সরকার। কিন্তু, ভর্তি করাতে পারেননি। সেই টাকা ফেরত চাইলে দিন কয়েক আগে অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে বিবাদ বাঁধে। চাঁচল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন রবিউল বাবর। আসন ফাঁকা হওয়ার পর নিয়ম মেনেই ওই ছাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে ছাত্র পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন। ছাত্র পরিষদে যোগ দেওয়ায় বাবরের ওপর রাগ ছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।

ছাত্র পরিষদের চাঁচল ১ নম্বর ব্লক সভাপতি মহম্মদ হাসান বলেন, তাঁদের সংগঠনের নেতারা রবিউল বাবরের ওপর আক্রমণ করে ঠিক কাজ করেননি। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এহেন কর্মকান্ড ঠিক নয়। ওদের লজ্জা পাওয়া উচিত। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা বাবু সরকার বলেন, রবিউল বাবর এদিন মাইনোরিটি স্কলারশিপের ফর্ম জমা দেওয়ার লাইন ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাই, অন্যরা তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। আমি বা আমাদের সংগঠনের কেউই তাঁকে মারধর করেনি।