ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ

488

হরিশ্চন্দ্রপুর: গভীর রাতে গ্রামের চলছিল জলসা। আর সেই জলসা থেকেই ডেকে নিয়ে গিয়ে অন্ধকার রাস্তায় বাবাকে ছুরি দিয়ে কোপালো ছেলে। ঘটনার জেরে বুধবার গভীর রাত থেকে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়।

জমি নিয়ে পুরোনো বিবাদের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। আহত পিতা মন্টু শেখকে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ছুরি দিয়ে মন্টুর পেট ফুঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরেই ছেলে শেখ সাজ্জাক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

- Advertisement -

বুধবার রাস উপলক্ষ্যে জলসার আসর বসেছিল বোড়ল বাজারে। সেখানে জলসা দেখতে এসেছিলেন মন্টু। মাঝরাতে একটি চায়ের দোকানে মন্টুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। তারপরেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছেলে তাঁকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে মন্টু দাবি করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আট বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আঙ্গারমনি এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন রনিয়াবাড়ি এলাকার মন্টু। তারপর শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন তিনি। রনিয়াবাড়িতে প্রথম পক্ষের চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বড় সাজ্জাক। কিন্তু প্রথম পক্ষের ছেলেমেয়েকে সম্পত্তির ভাগ না দেওয়ায় কয়েক বছর ধরেই বিবাদ চলছিল। এরপর একে একে সব জমি তিনি বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি বাড়ি বিক্রি করতে উদ্যত হলে বিবাদ চরমে ওঠে। তা নিয়ে একাধিকবার সালিশিও বসে। সেখানে বাড়ি বিক্রি না করার পাশাপাশি মেয়ের বিয়ের খরচ মন্টুকে দিতে হবে বলে প্রথম পক্ষের ছেলেরা দাবি করেন। কিন্তু তারপরও সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ।

হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান, তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। পুরোনো পারিবারিক বিবাদের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। জখম মন্টু শেখ মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।