উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে শরীরে ইমপ্ল্যান্ট বসাতে টাকা দাবি

261

রণজিত্ ঘোষ, শিলিগুড়ি : অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, রোগীর শরীরে বিভিন্ন ইমপ্ল্যান্ট বসানোর জন্য পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে। রোগী সুস্থ হওয়ার পর পরিবার টাকা দিতে বাধ্যও হচ্ছে। মেডিকেল সূত্রের খবর, সম্প্রতি হাসপাতাল সুপারের কাছে একাধিক মৌখিক অভিযোগ পৌঁছেছে। গত শনিবার বিষয়টি নিয়ে সুপার জরুরি বৈঠক করে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। যদিও সুপার  ডাঃ কৌশিক সমাজদার বলেন, সবসময় সব ইমপ্ল্যান্ট পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে সমস্যা হয়। অপারেশনের আগে আমি ইমপ্ল্যান্টের প্রয়োজনীয়তা জানতে পারলে দ্রুত তা স্বাস্থ্য ভবনে বলে আনিয়ে নিতে পারি। সেটাই সবাইকে বলেছি। ইমপ্ল্যান্ট বসানো নিয়ে টাকা চাওয়া হচ্ছে এমন কোনও লিখিত অভিযোগ আমি পাইনি।

মেডিকেলে অর্থোপেডিক বিভাগে যে অপারেশনগুলি হয় তার অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের শরীরে বিভিন্ন ইমপ্ল্যান্ট বসানোর প্রযোজন হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সমস্ত ইমপ্ল্যান্ট মেডিকেলগুলিতে সরবরাহ করা হয়। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে কোনও রোগীর শরীরে ইমপ্ল্যান্ট বসানোর প্রয়োজন হলে চিকিৎসকরৈ সেই রোগীকে এক-দেড় মাস কোনও ক্ষেত্রে তারও বেশি সময় পরে অপারেশনের তারিখ দেন। নিয়ম অনুযায়ী, রোগীর অপারেশন করার অন্তত তিন-চারদিন আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানকে সুপারের কাছে ইমপ্ল্যান্টের জন্য চাহিদাপত্র বা রিকুইজিশন জমা দিতে হয়। সেই মতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই ইমপ্ল্যান্ট স্টোরে মজুত না থাকলে স্বাস্থ্য ভবন থেকে তা আনিয়ে নেয়। কিন্তু এই মেডিকেলে চিকিৎসকরা তা করছেন না, বরং অপারেশনের দিন সকালে এসে বলা হচ্ছে, এই ইমপ্ল্যান্ট নেই কিন্তু আজই অপারেশন করতে হবে। ফলে তৎক্ষণাৎ স্থানীয়ভাবে সেই ইমপ্ল্যান্ট কিনতে হচ্ছে। আর এখানেই আর্থিক কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হচ্ছে। অভিযোগ, অর্থোপেডিক বিভাগে ইমপ্ল্যান্ট সরবরাহ করার জন্য বেশ কিছু এজেন্সির লোকজন প্রতিদিনই মেডিকেলে ঘুরঘুর করেন। তাঁদের কাছে ইমপ্ল্যান্ট নিলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যাচ্ছে। মেডিকেলের এক প্রাক্তন সুপার বলেন, এখানে ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ বরাবরই রয়েছে। আমি থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট বিভাগকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম, কার কী ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োজন তা অপারেশনের দু’তিনদিন আগে জানাতে হবে। অপারেশনের সকালে এসে ইমপ্ল্যান্ট নেই বললে হবে না। কারণ আমরা রোগীর অপারেশনের দিন পিছিয়ে দিলে রোগীর পরিবার ক্ষুব্ধ হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের অনেকেই সেই নিয়ম মানেননি। ফলে রোগীর দিকে তাকিয়ে বহু ক্ষেত্রেই স্থানীয়ভাবে ইমপ্ল্যান্ট কিনতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এসব বন্ধ হওয়া উচিত। সরকার যেখানে চাইলেই সমস্ত দামি দামি ইমপ্ল্যান্ট সরবরাহ করছে তখন স্থানীয়ভাবে এসব কেনা উচিত নয়। মেডিকেল সূত্রের খবর, ইমপ্ল্যান্ট কেনার ক্ষেত্রে যেমন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তেমনই অপারেশন করানোর জন্যও রোগীর পরিবারের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দাবি মতো টাকা না দিলে ইমপ্ল্যান্ট বসানো হয় না। টাকা নেওয়ার এমনই একাধিক অভিযোগ হাসপাতাল সুপারের কাছে জমা পড়েছে। এরপরই সুপার বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার নিজের চেম্বারে জরুরি বৈঠক করে সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

- Advertisement -