রানিগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে বাড়ি তৈরির অভিযোগ

42

আসানসোল: রানিগঞ্জ এলাকায় প্রাক্তন রাজাদের আমলে বেশ কয়েক একর জমি ছিল। যা পরে সরকারি জমি হিসেবে পরিচিত হয়। সেই জমি দখল হয়ে গিয়েছে। জমি মাফিয়াদের সৌজন্যে সেই জমিতে বেশ কয়েকটি বড় বড় বাড়িও তৈরি হয়েছে। এমনকি সেই জমিতে বহুতল হয়েছে। বহু জমি পাঁচিল দিয়ে ঘিরেও নেওয়া আছে। এমনই অভিযোগ যায় রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরে বিধায়ক হিসাবে তাপসবাবু আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রানিগঞ্জের দায়িত্বে থাকা পূর্ণশশী রায়কে তদন্ত করতে বলেন। বুধবার পূর্ণশশী রায় ও তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় ওই এলাকায় যান। তাঁরা বেশ কিছু জায়গা পরিদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ ও আসানসোল পুরনিগমের আধিকারিকরাও।

তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘লক্ষ্য করে দেখছি ওই এলাকায় বেশ কিছু মানুষের সরকারি জমি দখল ও পুকুর ভরাট করে সেখানে বাড়ি তৈরি করার একটা প্রবণতা আছে। আমার কাছে স্থানীয় বেশকিছু মানুষ অভিযোগ করে বলেছেন রানিগঞ্জের ভূমি রাজস্ব দপ্তরের এক আধিকারিক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আছে। আমি আসানসোল পুরনিগমন কর্তৃপক্ষকে বলেছি তদন্ত করতে তাঁরা যেন আরও বড় টিম করে। দরকার হলে জেলা থেকে ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে এসে এক সঙ্গে এই জমিগুলো কি চেহারায় ছিল ও কিভাবে জমির চরিত্র বদল করা হয়েছে তার তদন্ত করুক। যেহেতু এই জমি পুর এলাকার মধ্যে পড়ে। তাই পুরনিগম থেকে প্ল্যান পাশ করিয়ে কাজ করার কথা। এক্ষেত্রে আমার ধারণা সেটাও হয়নি। আর যদি তা হয়ে থাকে তাহলে সরকারি জমিতে কিভাবে বাড়ি তৈরি হল সেটারও তদন্ত করতে হবে। যারা এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে যারা বিধায়ক ছিলেন তাঁরা কেন এসব দেখেন নি তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। আগামী সপ্তাহে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের সঙ্গে  বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ভাবে কথা বলব।’

- Advertisement -

পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য পূর্ণশশী রায় বলেন, ‘আমরা অন্তত এমন ১০, ১২টি বাড়ি দেখলাম প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে সেগুলো সরকারি জমির উপর তৈরি হয়েছে। আরও কিছু জমি পাঁচিল দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। বিধায়ক পুরো বিষয়টি জেলাশাসককে জানাবেন। আগামী সপ্তাহে আমরা প্রশাসনের তরফে উচ্চপর্যায়ে আরও তদন্তের ব্যবস্থা করব।’