দুটি বোর্ডকে কুমিরছানা বানিয়ে টাকা চুরি

144

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : এ-ও এক কুমিরছানার গল্প। ডিসপ্লে বোর্ড তৈরি করা হয়েছে একটি বা দুটি। সেই বোর্ডগুলিকেই ২২৩টি জায়গায় ঘুরিয়েফিরিয়ে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিটি বোর্ড তৈরির খরচ আড়াই হাজার টাকা। এমজিএনআরইজিএ (মনরেগা)-র কাজে এভাবেই ভুয়ো বিল করে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ি পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের স্কিল টেকনিকাল পার্সনস (এসটিপি)-এর বিরুদ্ধে। যেহেতু বিলে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সই রয়েছে, তাই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তৃণমূল পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে পাতকাটা, অরবিন্দ, বাহাদুর সহ অন্য তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েগুলিও। বিষয়টি নিয়ে এইসব পঞ্চায়েত মিলিতভাবে জলপাইগুড়ি সদরের বিডিওর কাছে স্মারকলিপিও দেবে বলে জানা গিয়েছে। এ সম্পর্কে জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও তাপসী সাহা বলেন, বিল প্রদানের অনেক পরে এই অভিযোগ উঠেছে। এত দিনে হয়তো ওই বিল পেমেন্ট করা হয়ে গিয়ে থাকবে। তবু বিষয়টি দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিলের পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।

এই বিষয় নিয়ে পাহাড়পুর পঞ্চায়েত প্রধান অনীতা রাউতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এখনই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান। গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পের প্রতিটি কাজের আগে ডিসপ্লে বোর্ডে কাজের নাম সহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। ওই বোর্ড তৈরির খরচ মনরেগা প্রকল্প থেকেই বহন করা হয়ে থাকে। তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বাক্ষর সহ বিডিও অফিসে পাঠাতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এসটিপি সব জায়গায় ডিসপ্লে বোর্ড না লাগিয়ে বোর্ডের বিল করেছেন।

এই বিষয় নিয়ে সরব হওয়া পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রধান হেমব্রম বলেন, প্রতিটি ডিসপ্লে বোর্ড তৈরিতে প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়। পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এসটিপি এক-দুটি ডিসপ্লে বোর্ড বানিয়ে ২২৩টি বোর্ডের বিল করেছেন। এটা বড়ো ধরনের দুর্নীতি। তাঁর অভিযোগ, এই বিষয় নিয়ে এর আগেও সদরের এসডিওকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও এসটিপির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উলটে তাঁকে পাহাড়পুর থেকে বিডিও অফিসে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলে বিডিওর কাছে যাওয়া হবে বলে তিনি জানান। যদিও বিলে প্রধানের স্বাক্ষর নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।