রণজিত্ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : ১০০ দিনের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বরুয়াগছে। ব্যক্তিগত চা বাগানের ড্রেন কাটার স্কিম দিয়ে ধানের জমিতে লাগানো হচ্ছে প্রকল্পের ফলক। সে ক্ষেত্রেও নামমাত্র ড্রেন কেটে তুলে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজগঞ্জের বিডিও।

সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের প্রকল্প নিয়ে স্বজনপোষণ, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নতুন ঘটনা নয়। সম্প্রতি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বরুয়াগছে এমনই এক অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সুপারভাইজার নিজের এক নিকটাত্মীয়র চা বাগানের ড্রেন কাটার কথা বলে প্রকল্প অনুমোদন করান বলে অভিযোগ। আদতে সেই জমিতে কোনো চা বাগান নেই। সেই জমিতে ধান লাগানো হয়েছে। প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই সুপারভাইজার অন্য বুথের। তাছাড়া তাঁর নিজের আত্মীয়ে চা বাগানের ড্রেন করার জন্য প্রকল্প পাস করালেও ধানের জমিতে প্রকল্পের ফলক লাগিয়েছে। এজারুল হক, মোক্তার আলি প্রমুখ বাসিন্দা বলেন, এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমাদেরকে কথা শুনতে হয়েছে। সুপারভাইজার আমাদের বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার ও পঞ্চায়েত সদস্য সবই তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। কেউ কিছু করতে পারবে না। স্থানীয় কয়েকজন জবকার্ডধারী কাজ করতে চাইলেও কাজ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি রাজগঞ্জের বিডিওকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তাঁরা বলেন, সুপারভাইজার তাঁর নিজের দু’তিনজন আত্মীয়কে দিয়ে দায়সারাভাবে অল্প ড্রেন কেটে ছেড়ে দিয়েছেন। শুধু এই ঘটনাই নয়, বরুয়াগছ এলাকার মাঠে ধানের জমিতে এরকম বেশ কয়েকটি ১০০ দিনের কাজের ফলক লাগিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। এ ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মল্লিকা রায় বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট বাস্তুকারকে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া যখন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করা হয় তখন জমিটি ফাঁকা ছিল। এখন বর্ষা শুরু হওয়ায় হয়তো ধান লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিডিও এন সি শেরপা বলেন, অভিযোগ গুরুতর। সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যারা ওই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।