রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ: এবারে রান্নার গ্যাসকে ঘিরেও কাটমানির অভিযোগ। গরিবদের কাছে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিতে কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা চালু করলেও এই পরিসেবার বিনিময়ে রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতে উপভোক্তাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। টাকা নেওয়া হলেও কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উপভোক্তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন। শিলিগুড়ির যে সংস্থার মাধ্যমে এলাকায় এই পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে তার কর্ণধার সুরেশকুমার আগরওয়াল বলেন, এই ব্যবস্থায় উপভোক্তাদের বিনামূল্যে পরিসেবা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপভোক্তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে বলে রাজগঞ্জের বিডিও এন সি শেরপা জানান।

দেশের গরিব পরিবারগুলি যাতে রান্নার গ্যাসের সুবিধা পায় সেজন্য কেন্দ্র সরকার বহুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা চালু করেছে। বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে শিবির করে উপভোক্তাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়। সম্প্রতি রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বালাবাড়ি এলাকায় এই শিবির চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় এক সিপিএম গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে তিনদিন শিবির করে বাসিন্দাদের গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে আরও কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার পাবেন। তবে এখানে যাঁরা ইতিমধ্যেই এই সুবিধা পেয়েছেন তাঁদের অভিযোগ, পরিসেবার বিনিময়ে তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি বলে মালেকা খাতুন, জরিনা খাতুন, মকসেদা খাতুনের মতো বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন। মালেকার কথায়, অর্থাভাবে আমরা এতদিন রান্নার গ্যাস ব্যবহার করতে পারিনি। তবে ৭০০ টাকায় আমরা এই সুবিধা পাব বলে সম্প্রতি এক যুবক এলাকায় এসে আমাদের জানান। পরে আমাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। টাকা না দিলে আমরা পরিসেবা পাব না বলে ওই যুবক আমাদের জানান। ধারদেনা করে আমরা কোনোমতে এই টাকা জোগাড় করেছি। এই পরিসেবায় যুক্ত আখতার আলি উপভোক্তাদের কাছ থেকে অবশ্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিজেপির স্থানীয় বুথ সভাপতি মণিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে আমরা ওই শিবিরে গিয়ে গ্যাস বিতরণের কর্মীদের কাছে এবিষয়ে কারণ জানতে চাই। কিন্তু তাঁরা ঠিকমতো কোনো কারণ জানাননি। মণিরুলের অভিযোগ, ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁকে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে ধমক পর্যন্ত খেতে হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে এভাবে কাটমানি নেওয়ায় তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন বলে যুব মোর্চার রাজগঞ্জের সম্পাদক নিতাই মণ্ডল জানিয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে সৌকত আলি নামে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, আমার বাড়ির পাশে গ্যাস বিতরণ করা হলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে কিনা তা জানা নেই।