নদীবাঁধের কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

217

জটেশ্বর: একশো দিনের প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৯ নম্বর অংশে। এ নিয়ে ফালাকাটার বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলতলি ভান্ডানি এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, একশো দিনের কাজের প্রকল্পটির টাকা তুলে নেওয়া সহ যাবতীয় তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা নাহলে নির্বাচনের আগেই বড়সড় আন্দোলনে নামাতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৯ নম্বর অংশে ২০৯২টি শ্রমদিবসে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা ব্যায়ে চারশো মিটার লম্বা ও তিন মিটার চওড়া দুটি মাটির বাঁধ দেওয়ার কথা ছিল বুড়িতোর্ষা নদীর পাড়ে। তৃণমূলের অভিযোগ, সেখানে চারশো মিটার বাঁধ তো দূরের কথা এক কোদাল মাটির কাজও হয়নি বিজেপি শাসিত গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে। বিষয়টি নিয়ে জানুয়ারি মাসেই একবার হইচই শুরু হয়। তারপরে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে তদন্ত সহ নানা কারণে দিন গড়িয়ে যেতে থাকে। তিন মাস পরেও সেই দুর্নীতির কোনও সুরাহা না হওয়ায় মঙ্গলবার ফালাকাটা ব্লক প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ জমা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

- Advertisement -

স্থানীয় তৃণমূল নেতা মানিক রায়ের অভিযোগ, ‘বিজেপির পঞ্চায়েত এবং সুপারভাইজার ঘটনায় সরাসরি জড়িত। তবুও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।’

তৃণমূল নেতা রবীন্দ্র মিঞ্চের অভিযোগ, ‘যেখানে দুটি ধাপে চারশো মিটার পাড়বাঁধ হওয়ার কথা সেখানে এক মিটারও হয়নি। এদিকে কাজের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আমরা ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রশাসন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিক, এটাই চাই।’

এদিকে, সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৯ নম্বর অংশের মহিলা পঞ্চায়েত সদস্য নীলমণি বিশ্বাসকে ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী অজিত বিশ্বাস। বিজেপি কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেনি। সেখানে কাজ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তৃণমূলের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘এধরনের একটি খবর শুনেছি। বিষয়টি যেহেতু ব্লক প্রশাসনের আওতায় রয়েছে তারা নিশ্চয়ই দেখবে। আমরাও নজর রাখছি।’

তবে বিজেপির ১৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি চন্দ্র কিশোর বিশ্বশর্মা বলেন, ‘সেখানে ২০৯৪টি শ্রমদিবসের অর্ধেক কাজ হয়েছে। যতটুকু কাজ করা হয়েছে ততটুকুই মাস্টার রোল জমা করা হয়েছে। বাকি কাজের মাস্টার রোলই জমা করা হয়নি। তৃণমূলের এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ।’