সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট, ১০ জুলাই : আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের সাহেবপোঁতার পশ্চিম সিমলাবাড়ি গ্রামে একশো দিনের প্রকল্পে দুটি গ্রাভেল রাস্তার কাজ না করেই কয়েক ধাপে সরকারি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের মদতেই গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু কর্মচারীর মাধ্যমে বাস্তবে কাজ না করেই সরকারি প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে পশ্চিম সিমলাবাড়ি গ্রামের  বাসিন্দাদের একাংশ আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক ও আলিপুরদুয়ার-১-এর বিডিওকে তথ্য সহ অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তৃণমূলের দাবি, বিজেপির মদতেই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বিজেপির পালটা দাবি, তৃণমূলের আমলে কাজ না করে সরকারি প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এদিকে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক প্রশাসন। বিডিও শ্রেয়সী ঘোষ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সিমলাবাড়ি গ্রামের ১২/৩৮ নম্বর বুথে ২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষে  ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে দুটি গ্রাভেল রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। মকবুল হোসেনের বাড়ি থেকে অছিরুদ্দিন মিয়াঁর বাড়ি এবং সুনীল পালের বাড়ি থেকে রেজাউল মিয়াঁর বাড়ি পর্যন্ত দুই গ্রাভেল রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বাস্তবে রাস্তা দুটির কাজই হয়নি। গ্রামে রাস্তার কাজের কোনো সাইনবোর্ডও লাগানো হয়নি। অথচ ধাপে ধাপে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে এমন তথ্য পেয়ে গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু কর্মচারী এবং তৃণমূল নেতাদের মদতেই কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবি, ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।

অভিযোগপত্রে ৫৮ জন গ্রামবাসী সই করলেও শাসকদলের নেতাদের ভয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। অভিযোগপত্রের সঙ্গে বাসিন্দারা যে সরকারি তথ্য দিয়েছেন তাতে উল্লেখ রয়েছে দুটি রাস্তার ক্ষেত্রে রোলার, পাম্পসেটের তেল, আরবিএম ও সিঙ্গলস বাবদ একটি রাস্তার জন্য ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৪৭ ও অপর রাস্তা বাবদ ২ লক্ষ ১৬ হাজার ২৩০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মন্টু মুন্ডা বলেন, আমি এসব ব্যাপারে কিছু জানি না। গ্রাম পঞ্চায়েতে কেউ অভিযোগ করেনি। তাঁর দাবি, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ।

তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি তথা ওই গ্রামের বাসিন্দা মোতালেফ মিয়াঁ বলেন, বিজেপির মদতেই এরকম ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি। বিজেপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় পালটা বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। শুধু পাতলাখাওয়াতেই নয়, আরও অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতেই কাজ না করে টাকা তুলে নিয়েছেন শাসকদলের নেতারা। তাঁর দাবি, মানুষের এখন ঘুম ভেঙেছে। তাই তাঁরা এইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন।