মাথা ভর্তি চুলের স্বপ্নে রইল টাক, গেল টাকা

139

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা : বালার কথা অনেকেরই মনে আছে। টাকে চুল গজানোর জন্য সিনেমার নায়ক হন্যে হয়ে সর্বত্র দৌড়েছিলেন। এ রাজ্যেও একই ধরনের ঘটনা ঘটল। এবার ঘটনাপ্রবাহ আর একধাপ ওপরের। টাকে সাধের চুল গজাবে বলে নিজের সঞ্চিত টাকা খরচ করেও সে টাকা গিয়েছে, টাক কিন্তু বহালতবিয়তে। সোমবার টাকে চুল গজানোর নামে প্রতারিত হওয়ার এই মামলাটি রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনে বিচারের জন্য ওঠে। অভিযোগকারী বেলঘরিয়ার শ্যামলকুমার রায়। কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সল্টলেকের রিচফিল্ড হেলথ অ্যান্ড বিউটি নামে ওই সংস্থায় শ্যামলবাবু নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। কথা ছিল, ওই সংস্থা অস্ত্রোপচার করে শ্যামলবাবুর টাকে চুল বসিয়ে দেবে। কমিশনের কাছে শ্যামলবাবু অভিযোগ করেন, ওই সংস্থা তাঁকে বলেছিল চুল গজানোর জন্য তাঁর কোনও নগদ খরচ হবে না। একটি ফিন্যান্স কর্পোরেশন তাঁকে সুদমুক্ত ঋণ দেবে। তাঁর নাম নথিভুক্ত করলেই হবে।

শ্যামলবাব সংস্থার কথা মতো তাদের নথিপত্রে সই করে দেন। ঋণের টাকা শোধ করতে আগাম একাধিক চেক দিতে হয় ওই ফিন্যান্স সংস্থাকে। মাসে মাসে সে চেক অনুযায়ী টাকা জমা পড়তে থাকে ফিন্যান্স সংস্থায়। পরবর্তীকালে তাঁকে ডাক্তার জানান, যেহেতু তাঁর সুগার রয়েছে, তাই ওই অস্ত্রোপচার তাঁর পক্ষে করা ঠিক হবে না। শ্যামলবাবু তখন ওই সংস্থার কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু ওই সংস্থা জানিয়ে দেয়, তারা শ্যামলবাবুর কাছ থেকে কোনও টাকা নেয়নি। অতএব তাদের কোনও দায় নেই। ইতিমধ্যে তারা নির্দিষ্ট ফিন্যান্স সংস্থার কাছ থেকে টাকা পেয়ে গিয়েছে। শ্যামলবাবুকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে দেওয়া হয়। এরপর ওই ফিন্যান্স সংস্থার সঙ্গে শ্যামলবাবু যোগাযোগ করেন। তারা বলে, শ্যামলবাবুকে তারা ঋণ দিয়েছে। নিয়মমাফিক তাঁর কাছ থেকে কিস্তিতে তা কেটে নেওয়া হবে। এরপরই শ্যামলবাবু স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হন। অসীমবাবু বলেন, ইতিমধ্যেই শ্যামলবাবুর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই কিস্তিতে মোট ১০ হাজার টাকা কাটা হয়েছে। টাকে চুল গজানোর প্যাকেজের মোট খরচ ৪৪ হাজার টাকা। শ্যামলবাবুর তরফে চেকও জমা দেওয়া রয়েছে। আমরা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে বলেছি, এই প্রতারণার ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

- Advertisement -