কাজ না করেই টাকা লোপাটের অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

383

মুরতুজ আলম, সামসী: কোনওরকম কাজ না করেই অর্থ তছরূপের অভিযোগ উঠল রতুয়া-২ ব্লকের মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। অর্থ তছরূপের অভিযোগে প্রধানসহ, সদস্য ও পঞ্চায়েত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন এসপি, ডিএম, ডিএনও ও বিডিওর নিকট ওই পঞ্চায়েত এলাকারই কতিপয় বাসিন্দা। অভিযোগের কপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন রতুয়া-২-এর বিডিও সোমনাথ মান্না। এহেন অর্থ তছরূপের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

অভিযোগকারী আব্দুল বারি, আনুয়ার হোসেন, তসরুল হক, রেশমা খাতুন, মহম্মদ মামুনরা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাহাবাদ গ্রামের ঈদগাহের বিউটিফিকশনের জন্য একশো দিন প্রকল্পে পেপার টাইলসের তিনটি স্কিম ছিল। কিন্তু কোনও কাজ না করেই পঞ্চায়েত প্রধান আফসানা খাতুন, এলাহাবাদের সদস্য ইসমেতারা খাতুন, পঞ্চায়েতের এনএস, সেক্রেটারি, ইএ সবার মিলিজুলি যোগসাজসে ওই প্রকল্পের ৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৩৮ টাকার পুরোটাই লোপাট হয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাহাবাদ গ্রামবাসীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। এনিয়ে গ্রামবাসীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ পঞ্চায়েতের এহেন ভূমিকায়। গ্রামবাসীদের সাফ বক্তব্য, কাজ না করেই কেন তিনটি প্রকল্পেরই টাকা তোলা হল? তাই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা গণস্বাক্ষর করে এসপি, ডিএম, ডিএনও, বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, স্কিমগুলি সরজমিনে তদন্ত করে সরকারি অর্থ তছরূপের জন্য অভিযুক্ত প্রধান, সদস্য ও পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। নইলে এলাকাজুড়ে বড়সড় আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন এলাহাবাদের গ্রামবাসীরা।

মহারাজপুর পঞ্চায়েত প্রধান আফসানা খাতুন এ প্রসঙ্গে জানান, ঈদগাহের বিউটিফিকশনের জন্য পেপার টাইলস আনা হয়েছে। রাস্তার সমস্যার জন্য সমস্ত মাল পাশের গ্রাম চিকনিতে জমা রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামবাসীরা ঈদগাহের বদলে পেপার টাইলসের কাজ কবরস্থানের জানাযার নামাজ পড়ার জায়গায় করতে চাইছেন। তাই এই টালবাহানার দরুন কাজ চালু হতে একটু দেরি হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ চালু করার কথা বলেন প্রধান আফসানা খাতুন। তবে কাজ না করেই টাকা ওঠানোর ব্যাপারে প্রধান আফসানা খাতুন বলেন, ‘টাকা তোলা ঠিক হয়নি। বড় ভুল হয়ে গিয়েছে।’

এলাহাবাদ গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য ইসমেতারা খাতুন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,ওই তিনটি স্কিমের বিল ছাড়ার ব্যাপারে আমার কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।আমাকে অন্ধকারে রেখেই প্রধান বিল ছেড়েছেন।

রতুয়া-২ বিডিও সোমনাথ মান্না বলেন, ‘গুরুতর অভিযোগ। কাজ না করেই সত্যিই যদি স্কিমের টাকা উঠে যায় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা জড়িত থাকলে সেটাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও সোমনাথ মান্না।