রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : কোটি কোটি টাকা নয়ছয়, নিয়োগে দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগে শিলিগুড়ি রেডক্রস সোসাইটির প্রাক্তন সম্পাদক দীপক সরকার ও তৎকালীন কমিটির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিল শিলিগুড়ি মহকুমা প্রশাসন। অভিযোগ, রেডক্রস সোসাইটির গত ৫ বছরের আর্থিক লেনদেনে গরমিল রয়েছে। এই ৫ বছরে সোসাইটির আর্থিক লেনদেনের কোনো অডিট করা হয়নি। এছাড়া দীপক সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় মহকুমাশাসক সুমন্ত সহায়ে নির্দেশে ডাঃ তুষারকান্তি ঘোষের নেতৃত্বে একটি কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। ওই কমিটিতে আইনজীবী সহ শহরের কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষ রয়েছেন।

ইতিমধ্যে শিলিগুড়ি রেডক্রস সোসাইটির সাধারণ সভা (জেনারেল বডি) ডেকে দীপক সরকারকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণভজন ঘোষকে। সহসভাপতির দাযিত্ব দেওয়া হয়েছে ডাঃ পীযূষ রায়কে। পাঁচজনের একটি কার্যনির্বাহী সভা (এগ্জিকিউটিভ বডি) তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোষাধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছে সমাজকর্মী জ্যোৎস্না আগরওয়ালকে। সূত্রের খবর, দুমাসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক সুমন্ত সহায় বলেন, রেডক্রস সোসাইটির জেনারেল বডির বৈঠকে পুরোনো কমিটির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তাই একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তবে দীপক সরকার দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতি হয়নি, সমস্ত হিসেব ঠিকঠাক রয়েছে। প্রতি বছরই অডিট হয়েছে।

- Advertisement -

বেশ কয়েক বছর ধরে রেডক্রস সোসাইটির সম্পাদক পদে ছিলেন দীপক সরকার। অভিযোগ, তিনি দায়িত্বে থাকার সময় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। পেইড ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে শববাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, রোগী সহায়তাকেন্দ্রে নিযোগ- একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি রয়েছে। গত ৫ বছর ধরে শুধুমাত্র ওষুধ এবং পেইড ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ। ৫ বছরে টাকা নয়ছয়ে অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১২ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, রেডক্রসের নামে ওষুধ ও ভ্যাকসিন কেনা এবং বিক্রি করা হলেও তা পুরোটাই হয়েছে নগদে। এই কেনাকাটার কোনো অডিট হয়নি। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি মহকুমায় বিভিন্ন হাসপাতালের রোগী সহায়তাকেন্দ্রে রেডক্রস সোসাইটির ২৮ জন কর্মী রয়েছে। অভিযোগ, এই নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি।

শববাহী গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। অভিযোগ, সব ক্ষেত্রে রেডক্রস সোসাইটির সাধারণ সভাকে অন্ধকারে রেখে কাজ করা হয়েছে। প্রতি বছর সাধারণ সভা হওয়ার কথা থাকলেও গত ৫ বছর ধরে তা হয়নি। অন্যদিকে, ভ্যাকসিন নিয়ে দুর্নীতি সামনে আসতেই রেডক্রস ভবনের সামনে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি রেডক্রস সোসাইটির বর্তমান সম্পাদক কৃষ্ণভজন ঘোষ বলেন, পেইড ভ্যাকসিন কেনা ও বিক্রির জন্য গত ৫ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। আর সবটাই হয়েছে নগদে। ৫ বছরের কোনো অডিট রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা বোঝা যাবে।