শিলিগুড়ি, ২০ সেপ্টেম্বর : সরকারি প্রকল্পে গরিব মানুষের বাড়িতে পাকা শৌচালয় তৈরির জন্য যে টাকা শিলিগুড়ি পুরনিগমে এসেছিল তা খরচ করতে না পারায় ফেরত যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দুবার চিঠি দিয়ে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুরনিগমকে। কিন্তু এতদিনেও পুরনিগম কাজ করতে না পারায় গরিব মানুষ সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের আরবান পভার্টি এলিভিয়েন (ইউপিই) বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ কাউন্সিলার তাঁদের ওয়ার্ড থেকে উপভোক্তাদের নাম পাঠাতে দেরি করার কারণেই এত সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, উপভোক্তাদের যতজনের তালিকা পাঠানো হয়েছে, তার মাত্র ২২ শতাংশ বরাদ্দ টাকা খরচ করতে পেরেছে পুরনিগম। স্বাভাবিক কারণেই বাকি অর্থ এখন ফেরত চলে যাবে।

পুরনিগমের ইউপিই বিভাগ সূত্রে খবর, গত বছর এপ্রিল মাসে গরিবদের শৌচালয় তৈরি করে দেওয়ার জন্য ৩ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা এসেছিল পুরনিগমে। ২০১৩ সালে সুডা (স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি) একটি সমীক্ষা করে শিলিগুড়ি পুর এলাকায় কাঁচা শৌচালয় কত রয়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করেছিল। সেই তালিকায় ৩,০৬৯ জনের নাম ছিল। পরবর্তীতে আরও এক হাজার লোকের নাম পাঠানো হয় বিভিন্ন ওযার্ড থেকে। সুডা সেই তালিকাও মঞ্জুর করে। ঠিক হয়েছিল, উপভোক্তা এই শৌচালয় বানানোর জন্য এক হাজার টাকা দেবে, বাকি ৯,৯৯০ টাকা দেবে সরকার। প্রতিটি ওয়ার্ডে কতজন এই প্রকল্পে পাকা শৌচালয় পাবেন, তা সুডা ঠিক করে দিয়েছিল। সেইমতো পুরনিগম  থেকে ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের চিঠি দিয়ে তালিকা পাঠাতে বলা হয়। সম্প্রতি ১,৭৫০ জনের ফর্ম জমা হয়েছে সুডায়। আরও ৩০০-রও বেশি ফর্ম পুরনিগমেই পড়ে রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, ফর্ম এলেও পুরনিগম তা দেরি করে পাঠানোর ফলেই গরিবরা শৌচালয় বানানোর টাকা পাচ্ছেন না। পুরনিগম সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মাত্র ১,১১৬ জন শৌচালয় বানানোর টাকা পেয়েছেন, যা মোট উপভোক্তার মাত্র ২৭ শতাংশ।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, পুরনিগমের গাফিলতির কারণেই গরিবদের শৌচালয় বানানোর টাকা ফিরে যাওয়ার মুখে। দুবার ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর চিঠি দিয়েছে। কিন্তু পুরনিগম কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। শুধুমাত্র পুরনিগমের তৎপরতার অভাবে গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছেন। যদিও পুরনিগমের ইউপিই বিভাগের মেয়র পারিষদ পরিমল মিত্র বলেন, দেরি হওয়ার মূল কারণ কাউন্সিলাররা সময় মতো আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন না। এর মধ্যে শাসকদলের কাউন্সিলাররা যেমন রয়েছেন, তেমনই বিরোধী কাউন্সিলাররাও আছেন। মেয়র পারিষদ গিয়ে তো আর ওয়ার্ড ঘুরে আবেদনপত্র আনতে পারবেন না। কাউন্সিলাররা যদি উদ্যোগী না হন, তবে কোনোভাবেই তাড়াতাড়ি কাজ হবে না।