পাথর ফেলে নদী দখল করে জমি বিক্রি

1531

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: নদী চুরির নতুন পন্থা বের করেছে জমি মাফিয়ারা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদী থেকে বালিপাথর তুলে বিক্রি চক্রের বেশ কিছু দালালও। এই দুই চক্র মিলিতভাবে নদীর পুরো চর এমনকি নদীও বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে বিপজ্জনকভাবে বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে। সবকিছু দেখেও চোখ কার্যত বন্ধ করে রাখছে প্রশাসন। চুপ রাজনৈতিক দলগুলিও। এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকায় নদীর চর কিনছেন বহিরাগতরা। নদীতে অল্প জল বাড়লেই এই বাড়িগুলি পুরোপুরি নদীতে তলিয়ে যাবে। কিন্তু প্রশাসনিক নীরবতার সুযোগে এই অসাধু চক্র মানুষগুলিকে বিপদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায় বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিপদ বুঝেও কেন নদীর চরে বা নদীর খুব কাছাকাছি মানুষ জমি কিনছেন? নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে। শিলিগুড়ি শহর সহ মহকুমার বিভিন্ন নদীর চর দখল করে বিক্রি এবং সেখানে বসতি বসানোর ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছে।

শিলিগুড়ি শহরের মহানন্দার চরে একাধিক কলোনি বসে গিয়েছে। নদীর চর দখল হয়েছে মহকুমার বিভিন্ন এলাকাতেও। মাটিগাড়ার বালাসন নদীর চর নতুন পদ্ধতিতে দখল করে তা বিক্রি করছে মাফিয়ারা। পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা বানিয়াখারি ত্রিপালিজোত এবং লালপুল এলাকায় বালাসন নদীর চরে গেলেই চোখে পড়বে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বালি-পাথর নদী থেকে তোলা হচ্ছে। এই কাজে যুক্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রতিটি বাড়ির মহিলারা নদী থেকে বালিপাথর তুলছেন। বড় বড় পাথরগুলি ভাঙার কাজও করছেন।

- Advertisement -

খোঁজখবর নিতে গিয়ে দেখা গেল, এই বালিপাথর মজুত করার মাধ্যমেও নদীর চর দখল করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাচারকারী চক্র। শিলিগুড়ি এবং মাটিগাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি দৈনিক মজুরির বিনিময়ে মহিলাদের দিয়ে নদী থেকে বালি-পাথর তুলে চরে জড়ো করছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে অনেকটা জায়গাজুড়ে বালি-পাথর রেখে চর দখল করা হচ্ছে। সেই জায়গা দিনের পর দিন দখল হতে হতে ওই চক্রের হাতেই চলে যাচ্ছে। পরবর্তীতে সেই জমি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আবার নতুন করে অন্য জায়গা একইভাবে দখল করা হচ্ছে। এক-দেড় বছর ধরে এভাবে নদীর চর বিক্রি হতে হতে এখন নদীর ৮-১০ ফুট এলাকার মধ্যেকার জমিও বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ, বালি-পাথর পাচারকারীরা জমি মাফিয়াদের সঙ্গে মিলেই এই কারবার চালাচ্ছে। একটি বাড়ি করার জন্য বহিরাগত বিশেষ করে অসম, বিহার এবং বাংলাদেশ থেকে আসা পরিবারের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকায় জমি বিক্রি করা হচ্ছে। নিরাশ্রয়ে থাকা পরিবারগুলি বাধ্য হয়ে একটু আশ্রয়ের সন্ধানে ওই জমি কিনছে। কিন্তু তারাও জানে, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই তাদের বাড়িঘর ডুবে যাবে। প্রশ্ন উঠেছে, সব দেখেশুনেও কেন ব্লক প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে?

মাটিগাড়ার ব্লক ভমি ও ভমি রাজস্ব আধিকারিক দুর্জয় রায় বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তৃণমূল কংগ্রেসের মাটিগাড়া ব্লক (২) সভাপতি খগেশ্বর রায় বলেন, এই ঘটনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। দ্রুত এসবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।