ভুয়ো নথি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুট চাকুলিয়ার তরিয়ালে

314
প্রতীকী ছবি

মহম্মদ আশরাফুল হক, চাকুলিয়া : ভুয়ো জমির নথি দেখিয়ে একশোদিনের কাজের লক্ষ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। চাকুলিয়ার তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ পারুল সংসদে বাস্তবে কোনও মাদ্রাসা ও ইদগাহ নেই। কিন্তু সরকারি নথিতে মাদ্রাসা ও ইদগাহের নামে একশোদিনের প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ দেখিয়ে ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৭৪ টাকা তোলা হয়েছে।  এমনকি এই নামে কোথাও এক ঝুড়ি মাটিও ফেলার কাজ হয়নি। পুরোটাই ভুয়ো জায়গার নাম দিয়ে একশোদিনের প্রকল্পে সরকারি অর্থ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তথ্য জানার অধিকারের আবেদন করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নিয়ে বাসিন্দারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তাঁরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও ইদগাহের নামে টাকা চুরির অভিযোগ তুলেছেন। বর্তমানে চাকুলিয়ার তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েছের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয়রা এর উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন।চাকুলিয়ার বিডিও কানহাইয়াকুমার রায় বলেন, এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ জানালে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা অবাইদুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হলে প্রথমে প্রধানের স্বামীকে জানানো হয়। তিনি আবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে বলেন। তাঁর কথায়, আমরা এই সংসদের কয়েজন বাসিন্দা মিলে অভিযোগপত্রে সই করে প্রধান অফিসে জমা দেওয়ার চেষ্টা করি। সেই সময় ওই সংসদের তৃণমূলের নেতারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর  উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মামলা গড়ায় চাকুলিয়া থানায়। সেদিন আমাদের আর প্রধান অফিসে অভিযোগ জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পর তথ্য জানার অধিকারে আবেদন করলে তাঁদের অর্থ লোপাটের পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মাদ্রাসা ও ইদগাহ ছাড়া বহু জায়গার নাম দিয়ে অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করলে সব কিছু চিত্র পরিষ্কার হবে।

- Advertisement -

আরেক বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, একশোদিনের প্রকল্পে এলাকায় কোনও উন্নয়নের কাজ হয় না। কাজের নামে সরকারি অর্থ তছরুপ করা হচ্ছে। পেট ভরছে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে একাংশ নেতার। যেমনটা করা হয়েছে দক্ষিণ পারুল সংসদে। তাঁর অভিযোগ, এই সংসদে মাদ্রাসা ও ইদগাহ নেই। তবে কাজ ছাড়া কীভাবে টাকা তোলা হল? একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তৃণমূলের নেতারা কিংবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কেউ অন্যায় কাজ করলে ছাড়া পাবে না। পারুল সংসদের অর্থ তছরুপের ঘটনাটিকে কেন এখন  ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে? এখন পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে এর সদুত্তর মেলেনি। তিনি বলেন, কেউ অন্যায় কাজ করলে অভিযোগ করা যাবে না। করলে তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। প্রযোজনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসব। চাকুলিয়ার বিধায়ক আলি ইমরান রমজ বলেন, এক বছর আগে চাকুলিয়া বিডিও অফিসে তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় বিডিও ছিলেন সুপ্রিম দাস। তিনি তদন্ত না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত করা হয়নি। আগামীদিনে এর তদন্ত না হলে ওই পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলাতে বাধ্য হব। তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান গৌরী সিংহ বলেন, এই নিয়ে একবার তদন্ত করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে। কোথাও এ ধরনের কোনও অসংগতি  পাইনি।  একই ঘটনা নিয়ে বারবার অভিযোগ আনছেন বিরোধীরা।