জাতীয় সড়ক থেকে মাটি তুলে বেআইনিভাবে বিক্রি হচ্ছে

336

শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : লাটাগুড়িতে রেল ওভারব্রিজ (আরওবি) তৈরির জন্য জাতীয় সড়ক থেকে মাটি তোলা হলেও তা বেআইনিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আর্থমুভার দিযে মাটি তুলে তারপর তা ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক, ডাম্পারে বোঝাই করে লাটাগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ(এনএইচএআই)-র হয়ে যে ঠিকাদারি সংস্থাটি কাজ করছে তাদের দিকে অভিযোগের আঙুল। এদিকে, এভাবে মাটি তুলে তা অন্যত্র পাঠানোর জেরে লাটাগুড়ির বিভিন্ন রাস্তা ধুলোয় ঢেকে থাকছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন। এই ঘটনার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিরা সরব হয়েছেন। অভিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার তরফে কেউ কোনো কথা বলতে চাননি। এনএইচএআই-এর আরওবি বিভাগের নর্থ জোনের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ রায় অবশ্য বলেন, আরওবি তৈরির জন্য জাতীয় সড়কে যে মাটি রযেছে তা একটি স্তর পর্যন্ত তুলে ফেলতে হয়। বর্তমানে সেই কাজ চলছে। তবে ওই মাটি বিক্রি হচ্ছে কি না তা জানা নেই। এ বিষযে খোঁজখবর নিয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওযা হবে বলে কল্যাণবাবু আশ্বাস দিয়েছেন।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত রেলপথে লাটাগুড়ির বিচাভাঙ্গা রেল ক্রসিংয়ে লাটাগুড়ি-চালসা ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের যানজট মেটাতে রেল ওভারব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। গত বছরের শেষ থেকে এই আরওবি তৈরির কাজ শুরু হয়। এখানে রেল ওভারব্রিজের পাশাপাশি বিচাভাঙা রেল ক্রসিং থেকে জাতীয় সড়কের দুপাশ প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া করা হবে। দুটি কাজের জন্যই জাতীয় সড়কের মাটি তোলা হচ্ছে। তবে এই মাটি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একাজে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থাটি ট্রাক্টর পিছু ১০০ টাকা, মিনি ট্রাক পিছু ২০০ টাকা ও ডাম্পার পিছু প্রায় ১২০০ টাকা করে মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। তুলনামূলকভাবে বাজারের দামের তুলনায় সস্তা হওয়ায় এই মাটি ভালো বিক্রিও হচ্ছে।

- Advertisement -

এই প্রবণতার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিরা সরব হয়েছেন। লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জগবন্ধু সেনের অভিযোগ, বেআইনিভাবে মাটি বিক্রি করে ঠিকাদার সংস্থা একদিকে মোটা টাকা মুনাফা লুটছে। অন্যদিকে, প্রতিদিন শয়েশয়ে গাড়ি মাটি নিয়ে লাটাগুড়ির বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে যাতায়াত করায় এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ধুলোয় ঢেকে থাকছে। এর জেরে বাসিন্দারা রাস্তাঘাটে বের হতে সমস্যায় পড়ছেন। লাটাগুড়ির স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোবিন্দ দাস বলেন, এভাবে সরকারি সম্পত্তির নয়ছয় কোনোমতেই মানা যায় না। পাশাপাশি, বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়টিও সমর্থনযোগ্য নয়। এই প্রবণতা রুখতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে গোবিন্দবাবু দাবি জানিয়েছেন। সমস্যা মেটাতে প্রশাসন অবিলম্বে সক্রিয় ব্যবস্থা না নিলে বাসিন্দাদের একাংশ আন্দোলনের হঁশিয়ারিও দিয়েছেন।