বিরসা মুন্ডা কলেজে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

303

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : নকশালবাড়ির হাতিঘিসায় বিরসা মুন্ডা কলেজে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডির চারটি পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক-একজনের কাছ থেকে চার-পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে সবমিলিয়ে ১৭ জনের কাছ থেকে বহু টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। যদিও তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ বীরেন্দ্র মৃধা বলেন, আট মাস হল এই কলেজে কাজে যোগ দিয়েছি। তার আগে কী হয়েছে, তা বলতে পারব না। তবে বর্তমানে যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে নন-টিচিং স্টাফ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।

হিন্দিভাষীদের জন্য ২০১৮ সালে হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মেরিভিউ চা বাগান ও অটল চা বাগানের মাঝে এশিয়ান হাইওয়ের পাশে নকশালবাড়ি হিন্দি কলেজ স্থাপিত হয়। পরে নাম পালটে এই কলেজের নামকরণ বিরসা মুন্ডা কলেজ করা হয়। এখানে যাঁরা পড়াশোনা করেন তাঁরা বেশিরভাগই আশপাশের চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, কোনও আদিবাসী যুবক-যুবতী এখানে চাকরি পাননি। অটল চা বাগানের বাসিন্দা বিশাল লাকড়া বলেন, তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা মোটা টাকার বিনিময়ে এখানে বহিরাগতদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা স্রেফ লোকদেখানোর জন্য করা হয়। এলাকার বাসিন্দা অনুপ ওরাওঁ বলেন, চা বাগান এলাকায় বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী রয়েছেন। অথচ বিরসা মুন্ডা কলেজে নন-টিচিং স্টাফ হিসাবে তাঁদের চাকরি দেওযা হচ্ছে না। এলাকার তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠদের গোপনে কলেজে নিযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এনিয়ে  সুনীতা ধানোয়ারের মতো এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ জানিয়েছেন। আদিবাসী যুবক-যুবতীরাই যাতে এখানে চাকরি পান সেই দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন।

- Advertisement -

অটল চা বাগানে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভানেত্রী অমিতা তাঁতি বলেন, আমাদের বাগানের ছেলেমেয়েদের জন্য কলেজে একটি চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হলে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি অমর সিনহা ও দলের ব্লক সভাপতি পৃথ্বীশ রায় আমাদের কাছে চার লক্ষ টাকা দাবি করেন। বাগানের শ্রমিকদের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করে কোনওমতেই চাকরি নেওয়া সম্ভব নয়। এর আগেও নকশালবাড়ি হিন্দি কলেজে চাকরি দেওয়ার নাম করে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, নেতারা বেআইনি কাজ করছেন। আর তার জেরে দলের সাধারণ কর্মীরা মানুষের রোষের শিকার হচ্ছেন। তৃণমূল নেতা অমরবাবু বলেন, অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। মহকুমা শাসক কলেজের সিলেকশন কমিটিতে রয়েছেন। আদিবাসী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ওই কলেজে অবশ্যই আদিবাসী যুবক-যুবতীদের চাকরি হওয়া উচিত। আরেক অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পৃথ্বীশবাবু বলেন, স্থানীয় কিছু আদিবাসী যুবক-যুবতী অস্থায়ী হিসেবে বিরসা মুন্ডা কলেজে চাকরি করছেন। আমরা সিলেকশন কমিটিতে নেই। তাই আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলার কোনও মানে হয় না। বর্তমানে কলেজে কর্মী নিয়োগের পরীক্ষা চলছে। যাঁরা পরীক্ষায় ভালো করবেন তাঁরা চাকরি পাবেন।