বিনামূল্যের নিশ্চয়যানে টাকা লাগছে রায়গঞ্জে!

177

রায়গঞ্জ: প্রসূতি মায়েদের বিনামূল্যে নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অধিকাংশ নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে নিয়ে যেতে অর্থ নিচ্ছে বলে রোগীর পরিজনদের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে নজন প্রসূতি ছাড়া পাওয়ার পর ৩০০ ও ৪০০ টাকার বিনিময়ে বাড়ি যেতে বাধ্য হয়েছেন। আর যারা টাকা দিতে পারেননি, তাঁরা হাসপাতালেই পড়ে রয়েছেন।

রায়গঞ্জ থানার মারাইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের টেনহরির বাসিন্দা ধনিকা বর্মন, ইটাহার থানার বালিহারার বাসিন্দা সাইনা খাতুন সহ ছজন প্রসূতি ছুটি পেলেও তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স চালককে টাকা না দেওয়ায় তাঁদের দিনভর হাসপাতালেই কাটাতে হয়। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্স চালকরা নিয়ে যাওয়ার জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দাবি করছে। কেউ কেউ আবার ৫০০-৬০০ টাকা করে দাবি করে বিশ্বকর্মা পূজো উপলক্ষ্যে।

- Advertisement -

হাসপাতালে ভর্তি করার সময় নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অনেকে দেড়শ টাকা বকশিশ নেয়। অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বক্তব্য, আগে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বকশিশ নিতাম। পুজোর দিন বলে আমরা ৫০০ টাকা বকশিশ চেয়েছি। রোগীর পরিজনরা জানান, তাঁরা গরীব মানুষ দিনমজুর, খেতমজুর। তাঁদের পক্ষে অত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে ১০২-এ অভিযোগ করেছেন। ওনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে ইটাহার থানার নমনিয়া গ্রামের গর্ভবতী বধূ সাবানা খাতুনের প্রসববেদনা শুরু হয়। ১০২-এ বার বার ফোন করেও কোনও সুরাহা হয়নি। দীর্ঘ তিনঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ভুটভুটিতে চেপে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। মাঝরাস্তায় ওই গর্ভবতী মহিলা কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। এরপর তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে প্রসূতির পরিবার-পরিজনেরা। ১০২ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের টাকার মাধ্যমে রোগী নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসার ফলে মিশন মাতৃকা-১০০ প্রকল্পে কমছে প্রতিষ্ঠানিক প্রসবের হার।

রাজ্য সরকারের প্রসূতিদের জন্য নিখরচায় রোগী নিয়ে আসা এবং বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা চালু থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না মাতৃযান। ২০১৭ সালে এই মিশন মাতৃকা ১০০ প্রকল্প চালু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবজাতকের মৃত্যুর হার ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে জোর দেওয়া হয়েছিল উত্তর দিনাজপুর জেলায়। চালু হয়েছিল মিশন মাতৃকা ১০০ প্রকল্প। এই প্রকল্পে নিরাপদে শিশুর জন্ম দিতে সরকারি হাসপাতালে আশার উৎসাহ বেড়েছিল গর্ভবতীদের।

একসময় উত্তর দিনাজপুর জেলায় মিশন মাতৃকা চালুর দুবছরের মধ্যেই এক ধাক্কায় সরকারি হাসপাতালে প্রসব ৬২ শতাংশকে ছাপিয়ে ৯০ শতাংশ হয়েছিল। বর্তমানে সেই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে ইসলামপুর মহকুমা এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার প্রায় ৪৮ শতাংশ তবে সারা জেলার নিরিখে ৫০ শতাংশ। তবে নিশ্চয়যান প্রকল্পের গাড়িচালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও টাকা নেওয়ার দরুণ হাসপাতালে গিয়ে সন্তান প্রসবের চেয়ে বাড়িতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বাড়িতে প্রসবের ট্র্যাডিশন ক্রমশই বাড়ছে।

উত্তর দিনাজপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের গা ছাড়া মনোভাবের জেরেই মিশন মাতৃকা ১০০ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে।