নিয়ম ভেঙে অধ্যাপনা ও এমফিল, অভিযুক্ত উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় পড়ুয়া

649

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ম অনুসারে, কোনও কলেজের অধ্যাপক এককালীন ছুটি নেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পড়াশোনা বা গবেষণার কাজে যুক্ত থাকতে পারেন না। সেই নিয়ম ভেঙে একই সঙ্গে কলেজে অধ্যাপনা এবং এমফিল করার অভিযোগ উঠল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালযে নয়জন ছাত্রের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একাংশ কর্তৃপক্ষের কাছে ওই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রেজিস্ট্রার দিলীপকুমার সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হয়েছে তদন্ত। রিপোর্ট পেলে বিশ্ববিদ্যালযে বিধি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়েছে ক্যাম্পাসে।

ইউজিসির বিধি বলছে, এমফিল দুই বছরের একটি পূর্ণ সময়ের কোর্স। যেখানে চারটি সিমেস্টার আছে এবং ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত ক্লাস করতে হয়। পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে উপস্থিতির হারও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে অধ্যাপনা করতে হলেও সংশ্লিষ্ট অধ্যাপককে কলেজে নিয়মিত ক্লাস করাতে হয়। তাই অধ্যাপনা এবং এমফিল একসঙ্গে করা বাস্তবে সম্ভব নয়। গবেষকদের একাংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে অন্ধকারে রেখে বিধি ভেঙে অভিযুক্ত নয় অধ্যাপক এমফিল করছেন।

- Advertisement -

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের কেউ দ্বিতীয়, কেউ তৃতীয় সিমেস্টারের পড়ুয়া। নয়জনের মধ্যে দুজন কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। অন্য সাতজন পূর্ণ সময়ের অতিথি অধ্যাপক। এমফিল পড়াকালীন তাঁরা চাকরি পেয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। তবে এককালীন ছুটি নিয়ে এমফিল করতে চান এরকম কোনও অধ্যাপক বা অতিথি অধ্যাপকের আবেদন এখন পর‌্যন্ত তাঁদের কাছে জমা পড়েনি বলেই জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক বলেন, আমরা অনেকদিন আগেই বিষয়টি জেনেছি। ভেবেছিলাম যাঁরা চাকরি পেয়েছেন তাঁরা নিজেরাই কর্তৃপক্ষকে জানিযে আইনগত পদ্ধতিতে পড়াশোনা চালিযে যাবেন। কিন্তু সেটা না করায় আমরা বাধ্য হযে অভিযোগ জানিয়েছি। অন্য এক গবেষক বলেন, সীমিত আসন সংখ্যার জন্য প্রতিবছর অনেকে আবেদন করেও এমফিল করার সুযোগ পান না। যাঁরা আইন ভেঙে পড়াশোনা করছেন তাঁদের আসনগুলি ফাঁকা হলে সেখানে অন্য আবেদনকারীরা সুযোগ পেতে পারেন। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত প্রযোজনীয় পদক্ষেপ করা। রেজিস্ট্রার বলেন, গবেষকদের অভিযোগ পেয়েছি। তাঁরা একটি তালিকা জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালযে কলেজ পরিদর্শককে অভিযোগের তদন্ত করতে বলা হয়েছে। ইউজিসির নিয়ম ভেঙে সত্য গোপন করে কেউ যদি একই সঙ্গে অধ্যাপনা এবং এমফিল করেন তাহলে তা মারাত্মক অপরাধ বলেই বিবেচিত হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা যে কলেজে চাকরি পেয়েছেন সেখানেও আমরা চিঠি পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইব। তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়লে বিশ্ববিদ্যালযে বিধি মেনে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।