ফালাকাটায় রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

498

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটায় বাংলার গ্রাম সড়ক যোজনায় নির্মীয়মাণ একটি রাস্তার কাজ নিম্নমানের হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফালাকাটার সুভাষপল্লী থেকে কুঞ্জনগর, ময়রাডাঙ্গা, ছোট শালকুমার হয়ে নয় মাইল পর্যন্ত ১৭ কিমি রাস্তার কাজ নিম্নমানের হচ্ছে বলে সোমবার বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানায় স্থানীয় যুব উদ্যোক্তা সোসাইটি নামে সংস্থা। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। যদিও এরকম অভিযোগ মানতে চায়নি ঠিকাদার সংস্থা। স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্যা শেফালি নট্টও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

ফালাকাটা শহরের সঙ্গে যুক্ত সুভাষপল্লি থেকে মাদারিহাটের কাছাকাছি নয় মাইল পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তাটি কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনায় তৈরি হয়। ফালাকাটা-১, ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশ সহ ময়রাডাঙ্গা ও শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ বাসিন্দা এই রাস্তায় যাতায়াত করেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকেই রাস্তাটি বেহাল। ফালাকাটার অন্যতম পর্যঠন কেন্দ্র কুঞ্জনগরে যাওয়ার মূল রাস্তা এটি। এজন্য সাধারণ বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও বেহাল রাস্তার কারণে সমস্যায় পড়ছিলেন। তাই এবার চওড়ার পাশাপাশি শক্তপোক্তভাবে এই রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। বাংলার গ্রাম সড়ক যোজনায় প্রায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই রাস্তার শিলান্যাস করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি, লকডাউন ও পুজোর জন্য রাস্তার কাজ দেরিতে শুরু হয়। তবে রাস্তার কাজ শুরুর প্রথম দফাতেই নিম্নমানের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, ছোট শালকুমারের যুব উদ্যোক্তা সোসাইটি নামে একটি ক্লাবের প্রতিনিধিরা নিম্নমানের কাজ নিয়ে আগে মৌখিকভাবে ঠিকাদার সংস্থাকে জানান। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় এখন তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। নয়মাইল, ছোট শালকুমারের দিকেই এখন রাস্তার কাজ চলছে। এদিন বিডিও’র কাছে ওই সংস্থার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে , এই রাস্তার কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের ও শিডিউল না মেনে চলছে। সংস্থার সভাপতি ক্ষিতীশ চন্দ্রবর্মন ও কৌশিক আহমেদ জানান, তিনদিনের মধ্যে এই অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ না করলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে। প্রয়োজনে তাঁরা এ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই রাস্তার টাকা তছরুপের জন্য এলাকায় একদল মাতব্বর সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যা শেফালি নট্ট অভিযোগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে পালটা প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থসিদ্বি হচ্ছে না বলেই ওই সংস্থা এরকম ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে। আমার এলাকায় ভালোভাবে রাস্তার কাজ হোক, এটা আমিও চাই। এজন্য আমিও এই রাস্তার নির্মাণসামগ্রীর মান খতিয়ে দেখছি। ঠিকাদার সংস্থাও অভিযোগ মানতে চায়নি। সংস্থার প্রতিনিধি বুবুন চক্রবর্তী বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। স্থানীয় লোকেদের নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেট নির্মাণ সামগ্রী সাপ্লাই দিচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের ভূমিকা নেই। শিডিউল মেনে ধাপে ধাপে কাজটি হবে। প্রাথমিকস্তরে রাস্তাটি এখন চওড়া করা হচ্ছে। তাই হয়তো অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারছেন না।