ভয় দেখিয়ে অন্তঃসত্ত্বাদের নার্সিংহোমে পাঠাচ্ছেন ডাক্তাররা

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার পরিবর্তে অন্তঃসত্ত্বাদের নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে। প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে অন্তঃসত্ত্বারা সরকারি হাসপাতালে এলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের একাংশ নানা অজুহাতে তাঁদের ভর্তি নেন না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বাকে নিয়ে নার্সিংহোমে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাড়ির লোকজন।

অভিযোগ উঠছে, বাড়ির লোকজনকে সদ্যোজাতকে বাঁচাতে প্রসূতির জটিল অস্ত্রোপচারের কথা বলে অযথা ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সেই পরিকাঠামো নেই। এভাবে প্রসূতি ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে বাঁচানোর কথা বলে নার্সিংহোমে যাওয়ার জন্য রোগীর পরিবারের ওপর চিকিৎসকরা জোর করছেন বলে দাবি করছেন প্রসূতির পরিবারের সদস্যরা। ওই বিভাগের চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশ নার্সিংহোম মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই এসব করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের জেরে সরকারি হাসপাতালে সমস্ত সুযোগসুবিধা থাকলেও গরিব মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকেও একাধিকবার উঠেছে।

- Advertisement -

তৃণমূল রোগী পরিষেবা কেন্দ্রের সম্পাদক বাবন সাহা বলেন, এর আগেও একাধিকবার এনিয়ে অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবারের লোকজন। সমস্ত বিষয় জানানো হয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে। জানানো হয়েছে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা ইটাহারের বিধায়ককেও। অভিযোগ, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকদের একাংশের সঙ্গে শহরের বেশ কিছু নার্সিংহোম মালিকের আঁতাত রয়েছে। সেই চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি নার্সিংহোমেও রোগী দেখেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূতিরা এলে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না। যাঁদের ভর্তি করা হয়, তাঁদের ঠিকমতো চিকিৎসা করা হয় না। নানা জটিলতার কথা বলে রোগীর পরিবারের আত্মীয়দের ভয় দেখানো হয়। রোগীকে বাঁচাতে হলে নার্সিংহোমেই ভর্তি করতে হবে বলে সরাসরি বলছেন চিকিৎসকরা।

নার্সিংহোমে চিকিৎসা করার জন্য রোগীর পরিবারের কাছ থেকে মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে প্রসূতিরা হাসপাতালে ভর্তি হতে এলেও প্রসবের সময় হয়নি বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চললেও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার গরিব মানুষ। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫ জন গর্ভবতী রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁরা এখানেই সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অমল আচার্য বলেন, এই মুহূর্তে আমি জেলার বাইরে রয়েছি। সমস্ত বিষয় খোঁজ নিয়ে তবেই এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করব।