সস্ত্রীক তৃণমূল কর্মীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

287

মানিকগঞ্জ: সস্ত্রীক তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। এমনকী তৃণমূল সদস্যের স্ত্রীর কোলে থাকা এক বছরের কন্যা সন্তানওকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শুক্রবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মালকানি বাজার এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে। আহতদের হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার এই বিষয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ আউট পোস্টে লিখিত অভিযোগ করা হয় ।পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন। তাঁদের সাফাই ইতিপূর্বে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে যেসব মিথ্যা মামলা করা হয় সেগুলি যে মিথ্যা মামলা ছিল তা লিখিত আকারে লিখিয়ে নেওয়া হয় মাত্র। কোনও মারধর করা হয়নি।

খারিজা বেরুবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসকদল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য প্রশান্তকুমার সরকারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তার মেয়ে, স্ত্রী যোগীতা সরকারকে সঙ্গে নিয়ে ওষুধ কিনতে মালকানি বাজারে যান। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত বিজেপির রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি দিপেন্দ্র নাথ প্রামাণিক, পঞ্চায়েত প্রধান রেবতী রায়,পঞ্চায়েত সমিতির দুই সদস্য গোপাল রায় ও অলোক রায় ও বিজেপি নেতা বরুন অধিকারিরা। অভিযোগ, সে সময় হটাৎ করে ওই বিজেপি কর্মীরা তাদের পথ আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন। কিছু বোঝার আগে রেবতী রায় তাঁর মাথায় লোহার দন্ড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই সুযোগে অন্যরা তাঁর প্রাণহানীর জন্য এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। তাঁর পকেটে থাকা আনুমানিক ২০ হাজার টাকা বের করে নেন গোপাল রায়। তাঁর স্ত্রী যোগীতা সরকারের কোলে থাকা কন্যা সন্তানকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুঁড়ে দেন দীপেন প্রামাণিক। তাঁর স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেন ছিঁড়ে নেন বরুন অধিকারি। সঙ্গে অলোক রায় তাঁর স্ত্রীর কাপড় ছিঁড়ে ও শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে বলে প্রশান্তবাবু অভিযোগ করেন। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে শনিবার মানিকগঞ্জ পুলিশ আউট পোস্টে ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।

- Advertisement -

বিজেপি শাসিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রেবতী রায় বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি দিপেন্দ্র নাথ প্রামাণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য গোপাল রায় বলেন, ওই পঞ্চায়েত সদস্য এর আগে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে। যার কোনও টাই সত্যি নয়। মামলা তুলে নেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রাশান্ত। তাঁকে কোন মারধর করা হয়নি। সে সময় বাজারে প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিল।

একই কথা বলেন অলোক রায় ও বরুন অধিকারি। মানিকগঞ্জ আউট পোস্টের ওসি মেহবুব হুসেন চৌধুরী জানান, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।