তৃণমূলের কর্মীসভায় বোমা মারার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, চাঞ্চল্য

108

নয়ারহাট: বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসতেই রাজনৈতিক হিংসার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মাথাভাঙ্গা। বুধবার সন্ধ্যার প্রাক্কালে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গেন্দুগুড়ি এলাকায় বোমা মেরে তৃণমূলের কর্মীসভা ভেস্তে দেওয়ার পাশাপাশি বিধায়ক হিতেন বর্মনের গাড়ি, সাইকেল, চেয়ারটেবিল ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। গেরুয়া বাহিনীর তাণ্ডবের জেরে সভাস্থলের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন বিধায়ক সহ তাঁর দলের নেতারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। এদিনের এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। এদিন রাতের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহস্পতিবার ব্লকজুড়ে তৃণমূল প্রতিরোধের রাস্তায় নামবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোট উপলক্ষ্যে পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই এদিন নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গেন্দুগুড়ির ফুকটিডাঙ্গা হরিবাসর এলাকায় কর্মীসভার আয়োজন করে তৃণমূল। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক হিতেন বর্মন, দলের সংশ্লিষ্ট ব্লক সভাপতি মহেন্দ্রনাথ বর্মন, সাধারণ সম্পাদক মজিরুল হোসেন, ব্লক সহ সভাপতি ইন্দ্রজিৎ বসুনিয়া প্রমুখ। অভিযোগ, সভা শুরুর খানিক বাদেই বিজেপির লোকজন সভাস্থলের সামান্য দূরে পর পর দুটি বোমা বিস্ফোরণ করেন। এতে হকচকিয়ে যান উপস্থিত তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীরা। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের লোকজন সভার চারদিক ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তান্ডব। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সভা। কর্মীরা যে যার মতো পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। বিধায়ক হিতেন বর্মন সহ দলের নেতারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এর পর ভাঙচুর করা হয় বিধায়কের গাড়ি। বাদ যায়নি কর্মীদের সাইকেল ও সভার চেয়ারটেবিলও। প্রায় ২০ মিনিট বিনা বাধায় তান্ডব চালিয়ে সরে পড়ে গেরুয়া বাহিনী। এদিনের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন মাথাভাঙ্গা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুরজিৎ মণ্ডল এবং থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

- Advertisement -

বিধায়ক বলেন, ‘ভোটের মুখে এলাকায় অশান্তি পাকাতেই এদিন বিজেপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই কান্ড ঘটাল। বোমা মেরে সভা ভেস্তে দেওয়ার পাশাপাশি আমার গাড়ি, কর্মীদের সাইকেল ও চেয়ারটেবিল ভাঙচুর করা হল। গোটা ঘটনা দলের ওপর মহলে জানিয়েছি। পুলিশেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।’

এদিন ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বিধায়কের মাথাভাঙ্গার বাড়িতে আসেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। এদিনের ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘আজ রাতের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে কাল থেকেই ব্লক জুড়ে দলীয়ভাবে প্রতিরোধের রাস্তায় নামব।’

এদিকে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ বর্মন পালটা অভিযোগ করে বলেন, ওই দলের গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই এদিনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী যুক্ত নন। বিজেপির ১০ নম্বর মণ্ডল সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত বর্মন আবার বলেন, ‘হিতেন বর্মন সম্ভবত এবারে ভোটে লড়ার টিকিট পাচ্ছেন না ভেবেই নিজের দলের কর্মীদের দিয়ে গাড়ি ভাঙচুরের নাটক করে প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করছেন।’