ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাপানউতোর তৃণমূল-বিজেপি

118

পারডুবি: সরকারি প্রকল্পে ঘর দেওয়ার ভুয়ো তালিকা নিয়ে মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবির বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এমনই অভিযোগ তুলে সোমবার সরব হলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতারা।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা ভুয়ো নামের একগুচ্ছ তালিকা নিয়ে বুথে বুথে ‘বাংলা আবাস যোজনা’য় ঘর দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে বিজেপি অভিযোগ তুলছে। বিজেপির ৭ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত বর্মনের অভিযোগ, ‘শনিবার থেকে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ ভুয়ো নামের তালিকা নিয়ে কাগজপত্র চেয়ে ফর্ম পূরণ করে সরকারি প্রকল্পে ঘর দেওয়া হবে বলে টাকা নিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘এদিন ফের বিষয়টি জানতে পারি, পারডুবি ও পশ্চিম পারডুবিতে গ্রামবাসীদের ঘর দেওয়া হবে বলে কাগজপত্র সংগ্রহ করছেন তৃণমূল নেতাদের একাংশ। অথচ বিষয়টি জানা নেই স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের। এই নামের তালিকা কোথা থেকে এল, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, ঘরের নামের তালিকা এসেছে বিষয়টি জানাজানি হতেই নামের তালিকা দেখতেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হিড়িক পড়ে যায় এলাকায়। বিজেপির যুব নেতা ধরনী বর্মনের অভিযোগ, ‘পারডুবির বিভিন্ন বুথ সহ ব্লকের বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল নেতারা ঘর দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনীতি ও অর্থ আদায় করছে।’

যদিও এবিষয়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সহ সভাপতি রাজিব দত্ত বলেন, ‘বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা কাউকে ঘরের প্রতিশ্রুতি দিই না। বিজেপি এধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছে ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় আর নাম ছড়াচ্ছে আমাদের দলের। ঘর দেওয়ার সার্ভে ও ঘর কাকে দেওয়া হবে, তা ঠিক করে সরকারের প্রশাসনের কর্মীরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক।’

স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অশোক বর্মন জানান, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের কর্মীরা সার্ভে করে একটা তালিকা তৈরি করেছিল। সেই তালিকার ভিত্তিতে দলের বুথের কর্মীরা ‘বাংলা আবাস যোজনা’য় ঘর পাইয়ে দিতে আবেদন সংগ্রহ করছেন দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পরিষেবা দিতে।

ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা যায়, সরকারি ঘরের প্রকল্পের নামের কোনও তালিকা এখনও আসেনি। তালিকা অনুযায়ী জবকার্ডের অ্যাডিশন তথা সংযুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেখান থেকে ১০ শতাংশ নিশ্চয়তা রয়েছে ঘর পাওয়ার। এবিষয়ে মাথাভাঙ্গার মহকুমা শাসক অচিন্ত্য কুমার হাজরা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।