শিশু শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর অভিযোগ, কাঠগড়ায় প্রশাসন

136

রায়গঞ্জ: হোটেল-রেঁস্তোরা, মোটর গ্যারেজ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। শহরের বাসস্ট্যান্ড, জাতীয় সড়কের ধারে থাকা হোটেলগুলিতে শিশুদের দিয়ে বাসন ধোয়ানো, নোংরা সাফাই ছাড়াও আগুন জ্বালিয়ে রুটি সহ অন্যান্য খাবার বানানোর কাজ করতেও দেখা যায়। বিভিন্ন মোটর গ্যারেজে ঝালাইয়ের কাজ, গাড়িতে খালাসির কাজেও নিযুক্ত রয়েছে শিশু শ্রমিকরা। এহেন পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরবাসী।

রায়গঞ্জ শহর সহ জেলার ব্যবসায়ীদের একাংশ কম টাকার বিনিময়ে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। একজন পূর্ণবয়স্ক শ্রমিকের মজুরি যা লাগে তার চার ভাগের এক ভাগও খরচ লাগেনা শিশু শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। দুস্থ পরিবারের বাবা-মায়েরা সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে না পেরে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সন্তানদের ঠেলে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেন না। সেই সুযোগ নিয়েই কিছু মানুষ ওই সকল শিশুদের কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মুনাফা লুটছেন। অনেক্ষেত্রে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ করিয়ে সামান্য রোজগারের আশায় এই ধরনের ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়ে থাকেন বাবা-মায়েরা। ইটাহার থেকে চোপড়া রাস্তার দু’ধারে থাকা বহু হোটেলে দিনরাত পরিশ্রম করছে ওই শিশু শ্রমিকরা। গভীর রাতে আসা লরি, বাসের যাত্রীদের জন্য রান্না খাবারও পরিবেশন করে এরা। শুধু তাই নয় খাবারও বানিয়ে দেয়।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে শ্রম দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে মার্চ মাসে রায়গঞ্জে জাতীয় সড়কের ধারে দুটি লাইন হোটেলে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোয় আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল। মাসখানেক আগে ইসলামপুরে অভিযান হয়েছে। ফের রায়গঞ্জে শিশু শ্রমিক বন্ধ করতে ওই অভিযান চালানো হবে।

উত্তর দিনাজপুর জেলা শ্রমদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার তথা ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার প্রজেক্টর প্রজেক্ট ডিরেক্টর রিমিশ এক্কা বলেন, ‘শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কোনও ব্যবসায়ী কাজ করালে ২০-৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া জেল ও জরিমানা দুই-ই হতে পারে।‘

রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ি বলেন, ‘শিশুশ্রম বেআইনি, বিষয়টি নিয়ে আমরা সংগঠন থেকে প্রচার চালিয়েছি।‘