ফ্লাড শেল্টারের মাঠের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

316

পলাশবাড়ি: সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে গৃহনির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়ি এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ফ্লাড শেল্টারের মাঠের জমি দখল হচ্ছে। কয়েক বছর আগে এই মাঠের জমির একাংশ অবৈধভাবে বিক্রিও হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই জমিতেই স্থানীয় এক ব্যক্তি নতুন পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। রবিবার অবৈধভাবে চলা ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করেন স্থানীয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল। উপপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে অভিযুক্ত সুনীল দাসের বক্তব্য, তিনি টাকা দিয়ে এই জমি কিনেছিলেন। তাই ঘরের কাজ শুরু করেন। এদিকে, স্থানীয়রা পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘আপাতত কাজ বন্ধ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।’

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশে পলাশবাড়ি এলাকায় ১৯৮২ সালে একটি বন্যাত্রাণ শিবির বা ফ্লাড শেল্টার তৈরি হয়। ওই ফ্লাড শেল্টারের পেছনেই সরকারি জমিতে একটি ফাঁকা মাঠ রয়েছে। মাঠের চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। এলাকার কিশোর, যুবকরা ওই মাঠে নিয়মিত খেলাধুলো করেন। বয়স্করা মাঠে পায়চারি করেন। অভিযোগ, এই মাঠের জমি কেনাবেচার জন্য একটি চক্র গড়ে ওঠে। কয়েক বছর আগে মাঠের পাশের একাংশ জমি কিনে বাড়ি করেন সুনীল দাস। চারলেনের মহাসড়কের জন্য এই রাস্তা এখন চওড়া হচ্ছে। সুনীল দাস এজন্য মাঠেরই একাংশ জমি দখল করে সম্প্র‍তি পাকা ঘরের কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এই অভিযোগ পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে আসেন উপপ্রধান সৌরভ পাল। তখনও নির্মাণকাজ চলছিল। পরে এলাকার বাসিন্দারাও সেখানে জমা হন।

- Advertisement -

এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য রবীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, ‘গৃহনির্মাণের কাজ অবৈধভাবে হচ্ছে। সরকারি মাঠের জমি দখল করে কাজ চলছে।’ সেজন্য নির্মাণ বন্ধ করার দাবি তোলেন তিনি। এ নিয়ে সোচ্চার হন মাঠ সংরক্ষণ কমিটির প্রতিনিধিরা। তাঁদের পক্ষে রতন বর্মন, অনিমেষ বর্মন, বাপ্পি বর্মন, রাজা সরকার জানান, রোজ সকাল ও বিকেলে এই মাঠে খেলাধুলো করে এলাকার কিশোর, যুবকরা। মাঠ কোনওভাবেই বেদখল হতে দেওয়া যাবে না। তাঁরাও দ্রুত অবৈধ নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারাও অবৈধ নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন।

উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘মাঠ অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। বিষয়টি প্রশাসনের উপরমহলে জানাব।’ তিনি নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।’

তবে অভিযুক্ত সুনীল দাস বলেন, ‘আমি ১৫ বছর থেকে এখানে বসবাস করছি। কয়েক বছর আগে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে জমিটি কিনে নিই। ওই সীমানার মধ্যেই ঘরের কাজ শুরু করি। জমি কেনাবেচার লিখিত নথিও রয়েছে। সেখানে সাক্ষী হিসেবে অনেকের সই আছে। তবে আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছি।’