বৈরগাছিতে কলা গাছ নিয়ে কয়েক কোটির দুর্নীতির অভিযোগ

382

গাজোল : কলা গাছ নিয়ে উত্তাল বৈরগাছি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রাম। কয়েকদিন ধরে এনিয়ে বিভিন্ন গ্রামে চলছে চরম উত্তেজনা। সোমবার দুইজন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীকে দপ্তরে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমবার পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় গভীর রাতে ওই দুজন কর্মচারীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ব্লক প্রশাসন। জোরকদমে চলছে তদন্তের কাজ। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট পাঠানো হবে জেলা শাসকের কাছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী জিয়াউল হক বলেন, গত পরশুদিন কয়লাবাদ এলাকায় গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয় প্রচুর কলা গাছ। কিন্তু কার কলা গাছ আর কেনই বা এখানে নিয়ে আসা হল তার কোনও সদুত্তর গাড়িচালক দিতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই গাড়ি থেকে কলাগাছ নামাতে বাধা দেন গ্রামবাসীরা। তখনই দেখা যায় প্রধান এসে কলা গাছগুলি নামানোর জন্য জোর দিতে থাকেন। এমনকি গাছ নামাতে না দিলে গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন। এরপর গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রধান সেখান থেকে চলে যান। আমরা চাই, এই ঘটনার তদন্ত করে সত্য উদঘাটিত করা হোক। প্রভাসচন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি বলেন, পঞ্চায়েত এলাকা থেকে উজ্জ্বল মণ্ডল নামে একজন কলা গাছের গাড়ি নিজের এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কলা গাছগুলি কার, তার সঠিক উত্তর না পাওয়ার জন্য এলাকাবাসী এবং জয়হিন্দ বাহিনী সেই কলাগাছ নামাতে বাধা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের বাধার জোরে অবশেষে কলা গাছগুলিকে পঞ্চায়েত অফিসে নিয়ে আসা হয়। আমাদের মনে হচ্ছে কলাগাছ নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছিল এই গাছগুলি দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

দক্ষিণ আলিনগরের বাসিন্দা মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, কলা গাছ নিয়ে কোটি টাকার উপর অনিয়ম হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত আছে গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত কর্মী এবং প্রধান সহ গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত সদস্য। দুএকজন উপভোক্তার হাতে কলা গাছ দিয়ে গোটা টাকাটাই তুলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ আসার পর এবং এই বিষয় নিয়ে আরটিআই করার পর নড়েচড়ে বসে গ্রাম পঞ্চায়েত। তড়িঘড়ি কলা গাছ নিয়ে এসে সেগুলিকে পুরোনো বলে দেখানোর চেষ্টা করেন। সোমবার চালান নম্বর এবং রেজিস্টারে নথিবদ্ধ করার জন্য পঞ্চায়েত অফিসে আসার কথা ছিল প্রধানের। কিন্তু তিনি আসেননি। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি না আসায় গ্রামবাসীরা দুপুর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী নিমাই দাস এবং সাদেক খানকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে পঞ্চায়েত অফিসে গাজোল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। কিন্তু উত্তেজিত গ্রামবাসীদের বাধায় আটক দুই কর্মীকে উদ্ধার না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় পুলিশ। এরপর রাতে আবার পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছান এএসআই হীরা শেখের নেতৃত্বে পুলিশবাহিনী। অবশেষে আলোচনা চালিয়ে গভীর রাতে ওই দুজন কর্মীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় পুলিশ।

পঞ্চায়েত প্রধান ভরতচন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যে সমস্ত কলা গাছ এসেছে তার টেন্ডার করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের সুবিধার জন্য পঞ্চায়েত অফিসে না রেখে গ্রামে কলাগাছগুলি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা বাধা দিয়ছে। আমি গ্রামবাসীদের বলেছিলাম, সরকারি কাজে বাধাদান করলে পুলিশ কেস হতে পারে। কিন্তু তারপরেও গ্রামবাসীদের বাধাদানের জন্য কলা গাছগুলি পঞ্চায়েত অফিসে রাখা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বিডিও উষ্ণতা মোক্তান জানিয়েছেন, বৈরগাছি-১ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রাম পঞ্চায়েতের দুইজন কর্মীকে গ্রামবাসীরা আটকে রেখেছিলেন। গাজোল থানার পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার গভীর রাতে ওই দুজন কর্মীকে আমরা উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন থেকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট জেলা শাসকের কাছে পাঠানো হবে।