১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

532
প্রতীকী ছবি

জটেশ্বর : প্রধানের নামে প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নামে টাকা উঠেছে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে এভাবেই সরকারি অর্থ তছরূপের অভিযোগ উঠল ধনীরামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতাই দাসের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে। নিজের নামে প্রকল্প, স্ত্রী ও ছেলের নামে টাকা তোলার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান। তাঁর দাবি, পেশায় কৃষক হিসেবে তিনি প্রকল্প পেতেই পারেন। যদিও সরকারি আধিকারিকরা বলছেন, প্রধান নিজের নামে বা স্ত্রী, ছেলের নামে ওইভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা তুলতে পারেন না। সেটা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে।

প্রধান নিতাই দাসের জব কার্ডে নাম আছে তাঁর স্ত্রী সারথি দাস এবং ছেলে সৌমেন দাসের। নিতাই দাসের পরিবার বিপিএল তালিকাভুক্ত নয় বলে জব কার্ডে উল্লেখ আছে। জব কার্ডের তথ্য বলছে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দফায় দফায় সারথি দাস এবং সৌমেন দাসের নাম ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়েছে। সেই মতো টাকাও তোলা হয়েছে। প্রতি কর্মদিবসের জন্য উপভোক্তারা ২০৪ টাকা করে পান। নিতাইবাবুর দাবি, তাঁর নামে কেঁচো সার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সেইজন্য তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের নামে মোট ৯০টি কর্মদিবসের টাকা তুলেছেন।

- Advertisement -

ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য স্বপনকুমার রায় বলেন, অনৈতিকভাবে গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে বিপিএল তালিকাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চায়েত প্রধান নিজের নামে প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছেন। স্ত্রী ও ছেলের নামে টাকা তুলেছেন। আমরা ঘটনার তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা চাই। প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করেছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার সাংগঠনিক জেলার জটেশ্বর ১৩ নম্বর মণ্ডল সম্পাদক সুজিত দত্ত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় থাকার জন্যই প্রশাসনের কর্তারা পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

নিতাইবাবু বলেন, আমার নামে একটি কেঁচো সার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। সেই প্রকল্পের টাকা আমার স্ত্রী এবং ছেলের নামে তুলেছি। এটা কোনও অপরাধ নয়। আমাকে পরিকল্পনা করে ফাঁসানো হচ্ছে। বিজেপির কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। নিতাইবাবুর আগে ধনীরামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন বর্তমান বিজেপি নেতা সুজিত দত্তের স্ত্রী মুক্তা সিংহ দত্ত। তখন বর্তমান প্রধানের স্ত্রী পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। দল বদল করে মুক্তা সিংহ দত্ত ও তাঁর স্বামী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের দাবি, মুক্তাদেবীর সময়ই একশো দিনের কাজের প্রকল্পে বর্তমান প্রধানের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল।

কেন তখন পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর নাম প্রকল্পে নথিভুক্ত করা হয়েছিল সেই প্রশ্ন তুলেছেন ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন। তিনি বলেন, নিতাইবাবু আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন ঠিক। তবে যদি দুর্নীতি হয় তা শুরু হয়েছে বিজেপির মণ্ডল নেতার স্ত্রীর আমলেই। তাই দুর্নীতির দায়ে ওঁদের আগে কাঠগড়ায় তোলা হোক। নিতাইবাবু কিছু টাকা তুলেছেন। আমরা বিষয়টি জানার পর দলের তরফে তাঁকে সতর্ক করেছি। উনি যাতে আর কোনও প্রকল্প থেকে নিজের বা পরিবারের কারও নামে টাকা না তোলেন তাও বলা হয়েছে। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।