গাজোলে মিড ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী বণ্টনে বেনিয়মের অভিযোগ

221

গাজোল: মিড ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী বণ্টনে বেনিয়মের অভিযোগ উঠল গাজোলে। করোনা পরিস্থিতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা যাতে মিড ডে মিলের খাবার থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য সরকারের তরফে প্রতি মাসে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হচ্ছে চাল, ডাল এবং আলু। দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও। চলতি মাসে চারবার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হলেও নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে গাজোলের সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রানিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

পড়ুয়াদের অভিভাবকদের অভিযোগ, চার বারের মধ্যে এর আগে মাত্র এক-দু’বার চাল এবং আলু দেওয়া হয়েছিল। দু’বার দেওয়া হয়নি। এদিন আবার অনেককে না জানিয়ে চাল আলু দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধায় তা বন্ধ হয়ে যায়।

- Advertisement -

দৈবকি বর্মন, অনুমতি বর্মন, নিরঞ্জন বর্মনরা জানান, তাঁদের বাড়ি মহেশপুর গ্রামে। তাঁদের ছেলে-মেয়েরা রানির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। করোনা পরিস্থিতির জেরে এখন স্কুল বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তাঁরা খবর পেয়েছেন সরকারের তরফে প্রত্যেক মাসে পড়ুয়াদের দুই কেজি করে চাল এবং আলু দেওয়া হচ্ছে। প্রথম মাসে তারা কেউই চাল এবং আলু পাননি। দ্বিতীয় মাসে চাল এবং আলু পেয়েছিলেন। আবার তৃতীয় মাসে কিছুই পাননি। এই মাসে লোকমুখে তাঁরা খবর পান আবার চাল আর আলু দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী তারা স্কুলে গিয়ে হাজির হন। শিক্ষকদের কাছে আগেকার খাদ্যসামগ্রীর দাবি করেন তাঁরা। কিন্তু শিক্ষকরা জানিয়ে দেন, যা বলার প্রধান শিক্ষক বলতে। তাঁরা এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।

গাজোলে মিড ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী বণ্টনে বেনিয়মের অভিযোগ| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, কিছু চাল ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে, আর বাদবাকি চাল ফেরত গিয়েছে। চাল এবং আলু বিতরণ না করে কেন ফেরত গেল তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর প্রধান শিক্ষক দিতে না পারায় এলাকাবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এদিন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ বন্ধ করে দেন। এরপর তাঁরা বিডিওর কাছে এসে অভিযোগ জানান। তাঁদের দাবি, হিসেবমতো প্রতিমাসের চাল এবং আলু তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। নাহলে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। বিডিওর কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গাজোল উত্তর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘ওই স্কুলের কয়েকজন পড়ুয়া গতমাসে মিড ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী পায়নি। সেগুলির দাবি জানানো হচ্ছে বলে একটা খবর আমার কাছে ছিল। কিন্তু এতগুলো পড়ুয়া যে গত দুই মাস ধরে খাদ্যসামগ্রী পায়নি তা জানা ছিল না। তবে এই রকম হওয়ার কথা নয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবাইকে খবর দিয়ে এই সামগ্রী বিতরণ করবেন। প্রথম মাসে কেউ যদি না পায় তাহলে সাধারণত দ্বিতীয় মাসে দিয়ে দেওয়া হয়। তবে চাল, আলু বা ডাল বেচে গেলে তা স্কুলে থাকে। পরের মাসে স্টক রেজিস্টার অনুযায়ী সেই সমস্ত সামগ্রী স্কুলে আসবে।’ বিষয়টি নিয়ে বিডিওর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রামে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিডিও উষ্ণতা মোক্তান বলেন, ‘এরকম একটা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছি।’