বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

394

রায়গঞ্জ: বিজেপি কর্মী অনুপ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। অতি সক্রিয় হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃতদেহ ডিসপোজ করার জন্য উদ্যোগী হলে পুলিশ ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে রীতিমতো স্থম্ভিত এলাকাবাসী। ওই ঘটনায় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অতি সক্রিয়তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

শুক্রবার মৃত বিজেপি কর্মী অনুপ রায়ের বাড়িতে যান সুকান্তবাবু। সেখানে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পুলিশ এবং মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পাঠানো তড়িঘড়ি ডিসপোজাল করার চিঠি দেখে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। তিনি এদিন পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ফরেনসিক তদন্ত ছাড়া ওই মৃতদেহ ডিসপোজ করা হয়, তবে যারা এই খুনের ঘটনায় জড়িত তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।

- Advertisement -

তিনি বলেন, আমরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি। বিজেপি কর্মী অনুপ রায়কে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতদেহ সঠিকভাবে ময়নাতদন্ত হলে পুরো রহস্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে বলেই কী অতি সক্রিয় পুলিশ-প্রশাসন, এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বিভিন্ন মহলে।

গত বুধবার দুপুর একটা নাগাদ পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছজন দুষ্কৃতী অনুপ রায়কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ পরিচয়ধারীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারের লোকেরাও সেভাবে বাধা দিতে পারেনি। এর পরেই অনুপের পরিবারের সন্দেহ হয়, যারা অনুপকে তুলে নিয়ে গিয়েছে তারা পুলিশ নয়। সাড়ে তিনটে নাগাদ তার পরিবারের লোকেরা ইটাহার থানায় মিসিং ডায়েরি করার জন্য যান। কিন্তু সেখানে পুলিশ মিসিং ডায়েরি গ্রহণ করেনি।

এরপর সাড়ে আটটা নাগাদ রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ফোন করে অনুপের পরিবারকে জানায়, অনুপের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদেরকে মর্গে আসার জন্য বলা হয়। পরিবারের লোক আসার আগেই তড়িঘড়ি মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষ করা হয় এবং জোরজুলুম করে পরিবারের লোকেদের দিয়ে কাগজপত্রে সই করিয়ে নেয় পুলিশ।

এরপরে পরিবারের লোকেরা উচ্চপর্যায়ে তদন্তের দাবি করতেই প্রশাসনের সক্রিয়তা আরও বেড়ে যায় অভিযোগ। মৃতদেহ যাতে পুনরায় উচ্চপর্যায়ে আর কোনও তদন্ত না হয় তার জন্যও ডিসপোজাল করার জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং রায়গঞ্জ থানার পক্ষ থেকে পরিবারের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে অনুপের মায়ের নামও ভুল।

চিঠির বয়ানেও অসঙ্গতি রয়েছে। তাই নানা প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের অতি সক্রিয়তা কেন, এই খুনের পিছনে কী পুলিশেরই মদত রয়েছে-এই প্রশ্ন তুলেছেন বালুরঘাটের বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। অনুপের মৃত্যুর পিছনে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব নয়, পুলিশেরও হাত রয়েছে বলে সোচ্চার হয়েছে গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এর প্রতিবাদে চরম আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছেন তাঁরা।