লকডাউনে শ্রমিকদের বেতনের কিস্তি কেটে নেওয়ার অভিযোগ

206

কৌশিক শীল, বানারহাট: শ্রমিকদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই হোলির সময়ে দেওয়া অগ্রিম টাকার কিস্তি কেটে নেওয়ায় বিরোধিতা করে সোমবার সকালে প্রায় দু’ঘন্টা ধরে বাগানের ফ্যাক্টরির গেটের সামনে গেট মিটিংয়ে সামিল হলেন গেন্দ্রাপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা। উল্লেখ্য, এদিনই শ্রমিকদের মজুরি দেবার কথা ছিল। শ্রমিকরা জানতে পারেন হোলির সময়ে তাদের অগ্রিম যে ৯০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল তার কিস্তি বাবদ এদিন মজুরি থেকে ৪৫০ টাকা কেটে নিয়ে বাকিটা হাতে তুলে দেবে বাগান কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে বাগানকর্মীদের বেতন থেকে হোলির সময়ে দেওয়া টাকার কিস্তি কেটে নেওয়া হয়েছে। এবার শ্রমিকদের পালা। এই লকডাউনের সময়ে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়ায় বিরোধিতা করে গেট মিটিংয়ে সামিল হলেন বাগানের সবকটি শ্রমিক সংগঠন।

গেট মিটিংয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের নেতা নারায়ণ বিশ্বকর্মা, নৃপরাজ ছেত্রী, চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন এর নেতা তিলক ছেত্রী, বঙ্গীয় চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা কৃষ্ণা বসনেত, প্রোগ্রেসিভ টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা রমেশ মাহালী সকলেই একসুরে বলেন, লকডাউনের কারণে বাগানে শ্রমিকদের বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। লকডাউনের সময়ে কাজ না হলেও সরকার শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করার কথা ঘোষণা করলেও চা বাগান কর্তৃপক্ষ তা দেয় নি। শুধুমাত্র লকডাউনের সময়কালের জন্য ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। বাগানে কাজ শুরুর পরও গোটা মাস কাজ হয় নি। কাজেই শ্রমিকরা এমনিতেই মজুরি বাবদ হাতে কম টাকা পাচ্ছেন। এমতাবস্থায় যদি হোলির সময়ের অগ্রিম দেওয়া অর্থের কিস্তি বাবদ ৪৫০ টাকা কেটে নেওয়া হয় তাহলে শ্রমিকদের চরম দুর্দশায় পড়তে হবে। তাছাড়া এ ব্যাপারে বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিক সংগঠনগুলির সাথে কোনোরকম আলোচনাই করেনি। কাউকে কিছু না জানিয়ে এই সময়ে বাড়তি টাকা কেটে নেওয়া অমানবিক। তাই বাগানের সবকটি শ্রমিক সংগঠন মিলে এদিন গেট মিটিং করে বাগান প্রবন্ধককে স্মারকলিপি দিয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে গেন্দ্রাপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেতন থেকে কিস্তির টাকা কেটে না নেওয়ার কথা এর আগে জানানো হয়নি। আগেই স্থির ছিল হোলির সময়ে শ্রমিকদের যে ৯০০ টাকা অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছিল তা এপ্রিল ও মে মাসের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। সেই মতো কম্পিউটারে প্রোগ্রামিং করা ছিল। কাজেই স্বাভাবিক নিয়মেই বেতন থেকে সেই টাকা কাটা গিয়েছে। শ্রমিকরা আবেদন করলে এই মাসে কাটা হত না। শ্রমিকরা যখন চাইছেন না এই মুহুর্তে তাদের বেতন থেকে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হোক, তাহলে সেটা আর এমাসে যাতে কাটা না হয় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিন গেট মিটিংয়ের পর শ্রমিকরা বাগানের ম্যানেজারকে এই মূহুর্তে টাকা না কাটার আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয় লকডাউন খোলার পর উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পরই এ বিষয়ে হবে।